নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে বিজেপি নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে বারবার তোলাবাজি, সাধারণ মানুষ অথবা ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বের একটি অংশের আচরণে চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে। সবমিলিয়ে রাজ্য বিজেপির উপর তিতিবিরক্ত হয়ে পড়ছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি বঙ্গ বিজেপিকে বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়ে দিল, বাংলায় নেতাদের সংযত হতে বলুন। রাজ্যে বিজেপি এখন আর বিরোধী দল নেই। ফলে শাসক পক্ষ হিসাবে গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করুন। সেইমতো আচরণ করুন। শনিবার দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিনভর নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। প্রত্যেক রাজ্যের বিজেপি সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য কমিটির পাঁচজন করে পদাধিকারীও এদিনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন। এদিন সন্ধ্যায় বিজেপির সদর দপ্তরে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। নয়া জাতীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে জাতীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যরাত পেরিয়ে শেষ হয় সেই বৈঠক।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে এদিন বেশ কয়েক দফায় আলোচনা সারেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রধানত শমীকবাবুর মাধ্যমেই নবীন সহ দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্য বিজেপি নেতাকর্মীদের বড়ো অংশকে সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন। জানা যাচ্ছে যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও খোঁজখবর নিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। এমনিতেই আগামী বছর সাতটি রাজ্যের বিধানসভা ভোট এবং তিন বছরের মাথায় লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে জেন-জি’দের নিয়ে রীতিমতো সন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছে বিজেপি। শনিবারের বৈঠকে জেন-জি’দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। স্মৃতি ইরানি, বিনোদ তাওড়েদের নিয়ে গঠন হয়েছে এসংক্রান্ত কমিটিও। নেতৃত্বকে বলা হয়েছে, জেন-জি’দের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অসন্তোষ কী আছে, তা জানুন। সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করুন। দলের নেতৃত্বকেও আরও বেশি করে রিলস তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন নবীন। সক্রিয় থাকতে বলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আগামী নির্বাচনগুলির জন্য প্রয়োজনীয় রোড ম্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের তরুণ প্রজন্মকে জুড়তে এমনকি বিজেপি হাতিয়ার করছে বন্দে মাতরমকেও। এদিনের বৈঠকে বন্দে মাতরম সংক্রান্ত ১০ দফা প্রস্তাব পাস করেছে বিজেপি। জানানো হয়েছে, বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্য এবং এবিষয়ে মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্যের প্রচার করতে প্রত্যেক বিজেপি নেতা রাস্তায় নামবেন। শনিবার বৈঠকের শুরুতে বন্দেমাতরমের ছয় স্তবকই গেয়েছেন বিজেপি নেতারা। কংগ্রেসকে আক্রমণ করে গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ‘পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু দেশের সঙ্গে সঙ্গে বন্দে মাতরম ভাগ করার ব্যাপারেও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই ‘প্রথা’ই মেনে চলছে কংগ্রেস। তাই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বন্দে মাতরমের শুধুমাত্র দু’টো স্তবক গাওয়ার নিন্দনীয় প্রস্তাব পাস করানো হয়েছে।’ জনপ্রতিনিধি হিসাবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তিতে শনিবার দিল্লিতে একটি কর্মশালারও আয়োজন করেছে বিজেপি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে সারা দেশে একমাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ কর্মসূচি পালন করা হবে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তারই ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশব্যাপী চলবে কর্মসূচি।
রবিবার আলাদা করে সবক’টি রাজ্যের বিজেপি সভাপতি এবং দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের (সংগঠন) সঙ্গে বৈঠক করবেন নবীন। কিন্তু সেই বৈঠকে থাকবেন না শমীক। বিশেষ অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে শনিবার রাতেই কলকাতা ফিরে গিয়েছেন তিনি।