সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বাসি ও উচ্ছিষ্ট খাবার পরিবেশন এবং অসামাজিক কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ উঠল এক রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে পুলিশি হানায় তালা ঝুলল সাগরদিঘির এক রেস্তরাঁয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কয়েকজন খদ্দেরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হানা দেয় পুলিশ। হানা দিয়েই রেস্তরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খোলা আ-ঢাকা খাবার নজরে আসে পুলিশের। তারপরেই পুলিশ রেস্তরাঁটির মালিককে আটক করেছে এবং গোটা বিষয়টি রাজ্য ফুড সেফটি দপ্তরকে জানিয়েছে। ঘটনার জেরে স্থানীয় খাদ্যপ্রেমী মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাগরদিঘি থানার ওসি বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রেস্তরাঁয় গিয়ে তল্লাশি চালায়। সেখানে যে খাবার পাওয়া গিয়েছে, তা একেবারেই তাজা নয়। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পুরো বিষয়টি খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সাগরদিঘির ওই রেস্তরাঁ থেকে পার্সেল নিয়েছিলেন রোহিদ হোসেন সহ কয়েকজন খদ্দের। তাঁদের অভিযোগ, টেবিলের উপর খোলা অবস্থায় বাসি বিরিয়ানি রাখা ছিল এবং তা পুনরায় গরম করে পরিবেশন করা হচ্ছিল! এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে রেস্তোরাঁর এক কর্মী ওই ব্যক্তির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এরপর খদ্দেররা ছবি ও ভিডিও তোলার চেষ্টা করলে রেস্তরাঁ মালিক এসে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার রাতেই খদ্দেরদের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে পদক্ষেপ করে সাগরদিঘি থানার পুলিশ। আচমকা ওই রেস্তরাঁয় হানা দিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা দেখেন, টেবিলে খোলা অবস্থায় ছড়িয়ে রয়েছে বিরিয়ানি। যা স্পষ্টতই বাসি ও খাওয়ার অযোগ্য বলে প্রাথমিকভাবে মনে করে পুলিশ। এর পরেই সঙ্গে সঙ্গে রেস্তরাঁটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং মালিক নবাব মণ্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত রেস্তোরাঁ মালিকের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ওই রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সাগরদিঘির থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, বৃহস্পতিবার ফুড সেফটি দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে এসে সিল করা রেস্তরাঁ থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করবেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।



