


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: রাজ্যে সরকার বদলের পরই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। কলকাতা বা বার্নপুর, রাস্তার উপর থাকা দোকান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুরের অবৈধ নির্মাণগুলি ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি বিধায়করা। দামোদরের চর দখল করে প্রভাবশালীরা বানিয়েছেন রিসর্ট থেকে বাগানবাড়ি। পালাবদলের পর সেই অবৈধ নির্মাণগুলির ভবিষ্যৎ কী, সেদিকে নজর রয়েছে শহরবাসীর।
অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের সময়ে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুঃস্থরা বাধ্য হয়ে সরকারি জমি বা কেন্দ্রীয় সংস্থার জমিতে থেকেছেন। সেই সঙ্গে বিঘার পর বিঘা জমি লুট করেছে প্রভাবশালীরা। কেউ তৃণমূল নেতা, কেউ আবার তৃণমূল নেতার মদতপুষ্ট ব্যবসায়ী। সম্প্রতি কলকাতা শহরতলি এলাকায় বিলাসবহুল কিছু রিসর্ট খবরের শিরোনামে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দামোদরের চরে অবৈধ নির্মাণগুলির কী হবে, তা নিয়ে দুর্গাপুরবাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।
অভিযোগ, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন এই নির্মাণ গড়ে উঠেছে। দামোদর নদীর সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে নদীর চরে ডিভিসির জমির উপরই নির্মাণগুলি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেখানে থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি নৌকাবিহার, নাইট পার্টি সবেরই আয়োজন আছে। প্রভাবশালীদের দখলে থাকা এই এলাকায় বিনোদনের জন্য নেতা থেকে আমলারা আসেন। অনেকে ডিভিসির জমি দখল করে দিনের পর দিন ব্যবসা করেছে। পিকনিকের সময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছে। নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে বাগানবাড়ি যাওয়ার জন্য পাকা রাস্তাও করিয়েছে। এমনই বহু অভিযোগ রয়েছে দামোদর চর ঘিরে। কী বিপুল পরিমাণ জমি দখল হয়েছে, তা ডিভিসির এক আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, হুচুকডাঙা এলাকায় ডিভিসির ২০ একর জমি দখল করে রিসর্ট বানানো হয়েছে। তৃণমূলের এক প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি বিপুল জমি ঘিরে নিজের বাগানবাড়ি বানিয়েছেন।
ডিভিসির সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার অমিত মোদি বলেন, আমাদের এখানে নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়া হচ্ছে। আট হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। দামোদরের চরজুড়ে গ্রিন বেল্ট তৈরি করতে হবে। যারা বিপুল জমি দখল করে রয়েছে তাদের উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমরা জমি পুনরুদ্ধার করবই। বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, বিজেপি কোনো অন্যায়কে সমর্থন করবে না। ডিভিসিও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রশাসন পাশে থাকবে।