


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নির্বাচন কমিশনের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তা নিয়ে ক্ষোভও দিন দিন বেড়ে চলেছে। নলহাটির ১৩নম্বর ওয়ার্ডে ১,১১৪জন ‘বিচারাধীন’ ভোটারের মধ্যে ৯৮৭জনের নামই বাদ গিয়েছে। তার মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা। ‘ডিলিটেড’ ভোটারের তালিকায় রয়েছেন পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যের স্ত্রীও। সোমবার সন্ধ্যায় ওই ওয়ার্ডের নতুনগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে বাদ পড়া ভোটাররা একযোগে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের হুঁশিয়ারি, বৈধ ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি না হলে এলাকায় কাউকে ভোট দিতে দেবেন না। ২৩এপ্রিল বুথে তালা ঝুলিয়ে দেবেন।
১৩নম্বর ওয়ার্ডে চারটি বুথ রয়েছে। ভোটার সংখ্যা ৩৪৮৭। তার মধ্যে ১১১৪জন বিচারাধীন ছিলেন। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁদের মধ্যে ৯৮৭জনের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রায় হাজারখানেক ভোটার বাদ পড়ায় এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বাদ পড়া ভোটাররা বুথে একত্রিত হয়ে ‘আগে ভোটার, পরে ভোট’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে তাঁরা সেখানে একটি সভা করেন।
বিক্ষোভকারী দিলবর হোসেন বলেন, বেছে বেছে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছি। তাই আমাদের দাবি, আগে ভোটার, পরে ভোট। এখানকার বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা হলে এই ওয়ার্ডে ভোট করতে দেব না।
পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তহিদ শেখের স্ত্রী রেজিনা খাতুন এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নামও বাদ পড়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে বিয়ের পর মেয়েদের পদবি বিবি হয়। পদবি বদল হওয়ায় নোটিস পেয়েছিলাম। সেইমতো নথি জমা দিয়েছি। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাদ গেল। অথচ এই নথিতে আমার তিন ভাইবোনের নাম তালিকায় উঠেছে।
তহিদ শেখ বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এখন বিপন্ন। এঁরা সবাই বৈধ ভোটার। কিন্তু এখন কোথায় যাবেন, কী করবেন-ভেবে পাচ্ছেন না। সেকারণে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তবু তাঁদের বলেছি, এই বুথেই শিবির করে নথিপত্র সহ আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরে তা বিডিও বা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়ে নাম তোলার চেষ্টা করব। নির্বাচন কমিশন সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে চাইছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বা মহকুমা শাসকের অফিসে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যেতে পারে।