অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: সাবেক সাজে সেজে উঠছে মণ্ডপ। জোরকদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কাঠের কাঠামোয় পেরেক ঠোকার ঠুকঠাক শব্দ। সবুজ মাঠজুড়ে উৎসবের ছবি। তবে গত ১৫ বছর ধরে সল্টলেকের ‘এ ই ব্লক পার্ট-১’ এর পুজোয় এই দৃশ্য ছিল না। অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর অনুগামীরা ‘হাইজ্যাক’ করেছিল আবাসিকদের পাড়ার পুজোটিকে। পালাবদলের পর অবশ্য ছবি বদলেছে। সুজিতবাবু শ্রীঘরে। দেড় দশক পর সেই হাইজ্যাক হওয়া পুজো পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন আবাসিকরা। পাড়ার পুজো ফিরেছে পাড়ার আবাসিকদের হাতেই। মণ্ডপের বাইরে টাঙানো হয়েছে বড়ো আকারের হোর্ডিং। তাতে লেখা—‘উই ওয়ান্ট টু রিক্লেইম আওয়ার পুজো’।
সল্টলেকের ‘এ ই ব্লক পার্ট-১’ এর পুজো পড়ল ৪৩ বছরে। শহরের অন্যতম নামী পুজো। কিন্তু পাড়ার পুজোয় পাড়ার লোকজনই নাকি ভালো করে ঢুকতে পেতেন না। থিমের জ্বালায় হয়রান করা হত তাঁদের। পালাবদলের পর পাড়ার লোকজন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার পুজো ফেরাতে হবে তাঁদেরই হাতে। লেকটাউন সহ সল্টলেকের বিভিন্ন ব্লকের নির্বাচিত মাতব্বররা নাকি এই পুজো পরিচালনা করত। তাঁদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সুজিত বসু। এবার একেবারে অন্য ছবি। প্রধান পৃষ্ঠপোষদের জায়গায় কোনো ব্যক্তির নাম নেই। হোর্ডিং লেখা হয়েছে, ‘এ ই পার্ট-১ ব্লকের অধিবাসী বৃন্দ’। যা একেবারে অভিনব। আর হবে নাই বা কেন? পুজো তো পাড়ারই। তাই পাড়ার মানুষদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মণ্ডপের সামনে বসে কথা বলছিলেন ব্লক ও পুজোর সম্পাদক দেবব্রত লোধ। তিনি বলেন, এটা পাড়ার পুজো। কিন্তু ১৫ বছর ধরে আমাদের আবাসিকদের হাত থেকে পুজো কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবাসিকদের হয়রান করা হত। এবার আমরা আমাদের পুজো পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। চুরির টাকায় নয়। পাড়ার আবাসিকদের টাকায় এবার পুজো হচ্ছে। গত ১৫ বছর যাঁরা পুজো করেছেন তাঁরা কোটি কোটি টাকার হিসাব দিতে পারেননি। এমনকী শিল্পীদের টাকা পর্যন্ত মেটাননি। থিমের মণ্ডপ নয়। সাবেকিয়ানায় এবার পুজো হবে। আমরা কোনো রাজনীতি চাই না। পুজো হবে পুজোর মতো করে। আবাসিকরা সকলে মিলে বসে দু’দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া করবেন। মণ্ডপে বসে গল্প-আড্ডা হবে। পুজো মানে মিলন উৎসব। পুজো শেষ হওয়ার পর এই প্রথম ১ নভেম্বর বড়ো করে বিজয়া সম্মেলন হবে। নন ভেজ মেনুতে থাকবে ফ্রাইড রাইস থেকে চিলি চিকেন।