


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পাণ্ডবেশ্বর, অণ্ডাল, জামুড়িয়া থেকে বারাবনি। পশ্চিম বর্ধমান জেলার বেশিরভাগ ব্লকেই মাত্রাতিরিক্ত পানীয় জলের সংকট। বার বার রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন হয়েছে। তবু পানীয় জলের সংকট মেটেনি। উল্টে হীরাপুর থানার কালাঝরিয়ায় জল প্রকল্পের ব্রিজ ভেঙে পড়ায় পানীয় জলের কষ্ট আরও বেড়েছে। এক বছর ধরেও সেই সংকট মেটাতে পারেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। পাশাপাশি জানা গিয়েছিল, জল জীবন মিশন থেকে যে প্রকল্পগুলি শুরু হয়েছিল অর্থের অভাবে তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারের পালাবদল হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপির সরকার রয়েছে। আশা করা হচ্ছে জল জীবন মিশন প্রকল্পে যে ১৮০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে তা দ্রুত পাওয়া যাবে। এতেই দ্রুত পানীয় জল প্রকল্পগুলির গতি পাবে।
জল জীবন মিশন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। তৃণমূল সরকার থাকাকালীনই বাংলাতেও এই প্রকল্প শুরু হয়। শিল্পাঞ্চলের একাধিক বড় প্রকল্প ধরা হয়। তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ছিল, মাইথন জলাধার থেকে জল সংগ্রহ করে তা পরিস্রুত করে পাইপ লাইনে রানিগঞ্জ, অণ্ডাল, জামুড়িয়া ও পাণ্ডবেশ্বর ব্লকে সরবরাহ করা। সেই কাজ শুরু হয়। এই চারটি ব্লকে পর্যাপ্ত জল পাওয়ার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও আরও একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পঞ্চায়েত ধরে ধরে পানীয় জল সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যদিও কাজের দীর্ঘসূত্রিতাকে কারণ দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বকেয়া টাকা দেওয়া বন্ধ করা হয়। তৃণমূল একে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা করে অভিযোগ করলেও বিজেপির দাবি ছিল, এই প্রকল্পর কাজের হিসাব দিচ্ছিল না রাজ্য। পাশাপাশি অন্য সব রাজ্য সময় মতো কাজ সম্পন্ন করলেও তৃণমূল সরকার তা করতে পারেনি। জেলায় প্রায় ১৮০ কোটি টাকার বেশি আটকে থাকায় প্রকল্পগুলি বিশবাঁও জলে চলে যায়।
এদিকে হীরাপুর থানার কালাঝরিয়ায় জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের জল প্রকল্প ভেঙে পড়ে গত বছর। যার জেরে আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়ায় ব্যাপক জল সংকট নতুন করে তৈরি হয়। বিজেপি প্রচার করে তৃণমূল নদী থেকে বালি লুটে জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। এক বছর ধরেও তৃণমূল সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি। উল্টে ভোটের আগেও মানুষের একের পর এক রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের ক্ষোভ জানাতে থাকে। ভোটে বাক্সে সেই ক্ষোভ যে আছড়ে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিজেপিকে এনেছে। তাঁরা আশা করছে, কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে মিলিত ভাবে কাজ করে শিল্পাঞ্চলের জল কষ্ট চিরতরে মেটাবে। অন্যদিকে পুরমন্ত্রী হয়েছেন আসানসোলের দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল শহরের মানুষও প্রত্যাশা করছে শহরের জল কষ্ট মেটাতে পুরমন্ত্রী বাড়তি উদ্যোগী হবেন। বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্জ বলেন, শিল্পাঞ্চলে জল সংকট মেটানো আমাদের প্রাথমিক কাজ। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর যে মন্ত্রীর কাছে থাকবে, আমরা তার কাছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা করব। জলজীবন মিশন থেকেও কাজ হবে।