গড়বেতাকে মহকুমা করার ঘোষণা শুভেন্দুর, খুশি এলাকার বাসিন্দারা
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, গড়বেতা: ব্রিটিশ আমলে একসময় মহকুমার মর্যাদা ছিল গড়বেতার। সময়ের স্রোতে সেই পরিচয় হারিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে মহকুমার মর্যাদা ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকার মানুষ। অবশেষে গড়বেতাকে ফের মহকুমা করার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া গোটা এলাকায়। সাধারণ মানুষ তো বটেই, তার সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রশাসনিক সুবিধার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের স্বপ্নেও বুক বাঁধতে শুরু করেছেন গড়বেতার বাসিন্দারা।

Advertisement

শনিবার গড়বেতার মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গড়বেতাকে মহকুমার মর্যাদা দিতে হবে। পরের বার বাজেটে করে দেব। আগে এটা মহকুমা ছিল। কিন্তু সিপিএমের সুশান্ত ঘোষ ও বাকি নেতারা সব তুলে দিয়েছিল। বিজেপি ফিরেয়ে দেবে। উল্লেখ্য, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৭৬০ সাল নাগাদ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মেদিনীপুরের দেওয়ানি ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। ব্রিটিশ বিরোধী চুয়াড় বিদ্রোহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল গড়বেতা। সেই সময় এই জনপদের প্রশাসনিক দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলেও প্রশাসনিক মানচিত্রে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায় গড়বেতা। একসময় মেদিনীপুর মহকুমার অধীনে চলে আসে এই এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমল থেকেই গড়বেতাকে মহকুমা করার দাবি উঠতে শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘ বাম শাসনে সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেও একাধিকবার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এলেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। এক মমতাপন্থী তৃণমূল নেতার কথায়, বাম আমলে গড়বেতার উন্নয়ন থমকে ছিল। মহকুমা কার্যালয় গড়বেতায় হবে, নাকি প্রাক্তন বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের এলাকা চন্দ্রকোণা রোডে হবে, তা নিয়ে ওদের নিজেদের মধ্যে টানাপোড়েন চলেছিল। পরবর্তী সময়েও আমাদের দলের নেতাদের কেউ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হননি। বর্তমানে প্রশাসনিক কাজের জন্য গড়বেতার বহু মানুষকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে মেদিনীপুর শহরে ছুটতে হয়। বাসে যাতায়াত করতে প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয়। ট্রেনের সুবিধা থাকলেও সময়সূচির সমস্যায় অনেকেই বিপাকে পড়েন। গড়বেতার মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা অসীম ওঝা বলেন, ব্রিটিশ আমলে গড়বেতা মহকুমা ছিল। সেই সময়ের কিছু নিদর্শন এখনও রয়েছে। বাম ও তৃণমূল, কোনো আমলেই এই কাজ বাস্তবায়িত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। ভালো কাজের প্রশংসা করা উচিত। 
গড়বেতার বিধায়ক প্রদীপ লোধা বলেন, গড়বেতায় আসার আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই গড়বেতাকে মহকুমা করার প্রস্তাব দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সেই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে এলাকার মানুষ অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কথা দিলে কথা রাখেন। গড়বেতার চাষি শুভঙ্কর মণ্ডল বলেন, সব কাজ তো আর বিডিও অফিসে হয় না। কোনো প্রশাসনিক কাজের জন্য মেদিনীপুরে গেলে সারাটা দিন নষ্ট হয়ে যায়। মহকুমা হলে এলাকার চেহারাই বদলে যাবে। নতুন অফিস তৈরি হলে তার আশপাশে দোকানপাট গড়ে উঠবে। অনেকের কর্মসংস্থানের পথও খুলে যাবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, মহকুমা হলে অবশ্যই ভালো কথা। কিন্তু শুধু একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না। বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। তাঁর কটাক্ষ, ভোটে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকে জেলেই থাকতে হবে।