Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুরে তালপাতার পাখা বানিয়ে পেট চালান পাখাপাড়ার বাসিন্দারা

এসি, অত্যাধুনিক সিলিং ফ্যান, কুলারে বাজার ছেয়ে গেলেও তালপাতার তৈরি হাতপাখার কিন্তু জুড়ি মেলা ভার।

মেদিনীপুরে তালপাতার পাখা বানিয়ে পেট চালান পাখাপাড়ার বাসিন্দারা
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: এসি, অত্যাধুনিক সিলিং ফ্যান, কুলারে বাজার ছেয়ে গেলেও তালপাতার তৈরি হাতপাখার কিন্তু জুড়ি মেলা ভার। স্বল্প ব্যয়ে হাতপাখার হাওয়ায় মেলে তৃপ্তি। তালপাতা থেকে হাতপাখা তৈরি করে আজও পেট চালান একটা গোটা পাড়ার মানুষ। পয়লা বৈশাখের আগে পাখার বিক্রিও বেড়েছে। ছবিটা মেদিনীপুর সদর ব্লকের শিরোমণি এলাকার পাখাপাড়ার। গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, হাতপাখার বিক্রি বাড়ছে। অনেকেই অর্ডার দিয়ে পাখা নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই পাড়ায় জলের সমস্যা রয়েছে। স্থানীয় এক স্কুলের জলের উপরেই ভরসা করতে হয় বাসিন্দাদের। গরমে জলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছে পরিবারগুলো। এক পাখা শিল্পী বলেন, এটি সিজনের ব্যবসা। বর্তমানে অনেকেই পাকা তৈরি করে রোজগার করছেন। এই পাড়ার ১৮ থেকে ১৯টি পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। সরকারি কিছু প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে উপকার হচ্ছে।

Advertisement

এদিন কথা হচ্ছিল পাখা শিল্পী অনিমা কদমার সঙ্গে। তিনি বলেন, আজও বাজারে চাহিদা রয়েছে এই হাতপাখার। ভিন রাজ্যেও হাতপাখা যাচ্ছে। একমাত্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে হাতপাখার গুরুত্ব বোঝা যায়। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে উপকার হচ্ছে।
তবে কীভাবে তৈরি হয় তালপাতার পাখা? এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রথম কাজ জঙ্গল থেকে তালপাতা কেটে আনা। দীর্ঘদিন ধরে পাতা কাটার কাজ শিখতে হয়। বংশ পরম্পরায় পাখাপাড়ার মানুষ তালপাতার পাখা তৈরি করছেন। কীভাবে কাটলে একটা পাতা থেকে অনেক হাতপাখা তৈরি করা যায়, তা জানা সবচেয়ে জরুরি। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, সবার প্রথমে গোল করে কাটতে হবে তালপাতা। এরপর পাতার মাঝখানে ডাটি (হ্যান্ডেল) রেখে পাতার চারিপাশ সেলাই করে দেওয়া হয়। এরপর পাতার উপর নকশা কাটা হয়। পাখা যাতে দেখতে ভালো ও টেঁকসই হয় সে দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেন শিল্পীরা। কারণ, তবেই তো এর দাম পাওয়া যায়।
জানা গিয়েছে, একজন মানুষ দিনভর কাজ করে ৫০ থেকে ১০০টি পাখা বানাতে পারে। বর্তমানে পাইকারি দরে দোকানে তা বিক্রি হয় ৮ থেকে ৯ টাকায়। হাতপাখা তৈরির জন্য তেমন খরচ না হওয়ায় লাভ অনেকটাই বেশি। পাড়ার প্রতিটা বাড়ি থেকে সপ্তাহে গড়ে তিন থেকে চারশো পাখা বিক্রি হচ্ছে। ডিজাইন করা পাখার দাম বেশি। সেই পাখার চাহিদাও বেশি।
এক পাখা শিল্পী বলেন, অনেক শিল্পী সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পায়নি। এছাড়া জলের সমস্যাও বাড়ছে। আগের তুলনায় সুতো, রঙের দাম বেড়েছে। তাল গাছ আগের তুলনায় কমেছে। তাই খুঁজে বের করা খুবই সমস্যার।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, এই এলাকার মানুষ খুব কষ্ট করে পাখা তৈরি করেন। তাঁদের যাতে সমস্যা না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ