সংবাদদাতা, লালবাগ: ভগবানগোলা-২ ব্লকের আখরিগঞ্জ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নির্মলচর। পদ্মার বুকে জেগে ওঠা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিস্তীর্ণ চর এলাকায় ১২ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। অথচ এখানে নেই কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল। কাজেই সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য নদী (ছোট পদ্মা) পেরিয়ে ছুটতে হয় নশিপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এদিকে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ৮-১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছতেই তিন-চার ঘণ্টা লেগে যায়। কাজেই মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের লোকজনের ইষ্টনাম জপ ছাড়া উপায় থাকে না। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে পথেই রোগীর মৃত্যু হয়। চরের বাসিন্দারা গত কয়েক দশক ধরে একটি হাসপাতালের দাবি জানিয়ে আসছেন। আখরিগঞ্জ পঞ্চায়েতের ১৮টি সংসদের মধ্যে ৮টি রয়েছে নির্মলচরে। মনসুরপুর, নির্মলচর, পূর্ব ও পশ্চিম পাইকমারি, চরপাতিবোনা, চর মস্তানাপাড়া, ঘোষপাড়া, শয়তানপাড়া, চর কৃষ্ণপুরের মতো ১৯টি গ্রাম রয়েছে। চর এলাকায় রয়েছে ১টি জুনিয়র হাই স্কুল এবং ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এত সংখ্যক মানুষের জন্য আছে একটি মাত্র উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ওখানে এএনএম দিয়ে শুধুমাত্র গর্ভবতী মহিলা ও সদ্যোজাতের টিকা দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও সড়কের ব্যবস্থাও তথৈবচ। তাঁদের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো জীবনযাপন করতে হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চরের বাসিন্দা রহমান শেখ, আসগর আলিরা। তাঁরা বলেন, ভৌগলিক কারণে আমরা সমস্ত রকম নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। চিকিৎসা ছাড়াও পড়াশোনা নিয়েও আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। জানি না কবে এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। ঘোষপাড়ার ইনতিয়াজ শেখ বলেন, বছর খানেক আগে লিটন শেখ নামে এক যুবককে সাপে কেটেছিল। সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারায় পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার দিন কয়েক পরেই ছয় বছরের এক নাবালিকা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। চরে হাসপাতাল থাকলে হয়তো এরা প্রাণে বেঁচে যেত। সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারা ভোট চাইতে এসে আমাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু তারপরও কিছুই হয় না। কয়েক দশক ধরে এভাবেই চলছে। চর কৃষ্ণপুরের ষাটোর্ধ্ব ইনসান শেখ বলেন, ভোটের সময়ে নেতাদের আমাদের কথা মনে পড়ে। তাই আমাদের দাবি পূরণ হয় না। আখরিগঞ্জ পঞ্চায়েত প্রধান সাইন শেখ বলেন, সামান্য জ্বর, বমি বা কাটাছেড়ার জন্য চরের মানুষদের ৭-৮ কিলোমিটার দূরে নশিপুরে ছুটতে হয়। একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল হলে চরবাসীরা উপকৃত হবেন।



