নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সাঁইথিয়া থানা এলাকায় দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে চোরের উপদ্রব। বাইক থেকে শুরু করে টোটো, এমনকী চলন্ত টোটোয় যাত্রীর ব্যাগ থেকে নগদ টাকা— চোরের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কিছুই। দুষ্কৃতীরা যেন পুলিশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহর জুড়ে। এর আগেও শহরে চুরি ছিনতাইয়ের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বহু ঘটনার কিনারা করতে গিয়ে লেজেগোবরে হয়েছে পুলিশ। কিন্তু এবার মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পরপর তিনটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে। গত ২৯ জুলাই সকাল ৮টা নাগাদ সাঁইথিয়ার ইউনিয়ন বোর্ড মাছ বাজারের সামনে থেকে একটি মোটরবাইক চুরি যায়। পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাহারান সেখের অভিযোগ, তিনি বাইকটি রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন বাইকটি নেই। এরপর আশেপাশের এলাকাতেও তল্লাশি করতে থাকেন তিনি। বাইকের হদিস মেলেনি। অবশেষে সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করে গত ৯ আগস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সাঁইথিয়ার আকোলপুরের বাসিন্দা টোটোচালক সুভাষ দাসের অভিযোগ, গত ২ আগস্ট সকালে টোটো চালিয়েই তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকা তাঁর স্ত্রীকে দেখতে এসেছিলেন। হাসপাতাল চত্বরে টিকিট কাউন্টারের পাশেই রেখেছিলেন টোটোটি। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, টোটোটি নেই। বহু খুঁজেও টোটোটি না মেলায় গত ৬ তারিখে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ওই টোটোর কোনো হদিশ দিতে পারেনি পুলিশ। এই টোটোটিই ছিল সুভাষবাবুর পরিবারের রোজগারের থাকার একমাত্র অবলম্বন। একদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে সংসারের ভার— সবটাই চলত ওই টোটোর ভরসায়। সব হারিয়ে একপ্রকার পথে বসা সুভাষবাবু কান্নাভেজা গলায় বলেন, ‹এক লাখ টাকা লোন আছে। লোন নিয়েই টোটো কিনেছিলাম। এই টোটো চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে আদৌ ঋণ শোধ করতে পারব কিনা সন্দেহ রয়েছে।›
গত ৫ আগস্ট বেলা ১১টা নাগাদ নতুন মোবাইল কিনবেন বলে বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে টোটোয় চেপে সাঁইথিয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ভালদা গ্রামের প্রকাশ বসাক। পথের মধ্যে শিশু সহ ৩ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ ওই টোটোয় ওঠে এবং প্রকাশবাবুর সঙ্গে রীতিমতো গল্প জুড়ে দেয়। সাঁইথিয়া কলেজের সামনে ওই ৫ জন নেমে যান। কিছুক্ষণ পর প্রকাশবাবু হাইস্কুলের সামনে নেমে দেখেন, ব্যাগের চেন খোলা এবং ১০ হাজার টাকা গায়েব! প্রকাশবাবু বলেন, ‹ওই পাঁচজন মিলে গল্প করার সুযোগ নিয়েই টাকাটা হাতসাফাই করে পালিয়েছে।› ওইদিনই তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। কার্যত এক সপ্তাহের সামান্য বেশি সময়ের মধ্যে পরপর তিনটি চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চরম আতঙ্কিত সাঁইথিয়াবাসী। পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।