সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: ভারত-ভুটান সীমান্ত এবং অসম-বাংলা সীমানা ঘেঁষা প্রান্তিক ব্লক কুমারগ্রাম। এই ব্লকে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বিগত সরকার সেভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যে নতুন সরকার কুমারগ্রামে পর্যটনের বিকাশে উদ্যোগ নেবে বলে আশাবাদী প্রান্তিক এই ব্লকের সাধারণ মানুষ। রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
কুমারগ্রাম ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় রয়েছে চা বাগান, পাহাড়, জঙ্গল ও নদী। এছাড়াও ব্লকের বিভিন্ন স্থানে আছে ইতিহাস বিজড়িত স্থান ও নানা স্থাপত্য। অভিযোগ, এ বিষয়ে বিগত সরকার সঠিক কোনো পদক্ষেপ না করার কারণে কুমারগ্রাম আজও পর্যটনের মানচিত্রের বাইরে রয়েছে।
কুমারগ্রাম ব্লকের ভারত-ভুটান সীমান্তের নিউল্যান্ডস, কুমারগ্রাম ও সংকোশ বনবস্তি ভুটান পাহাড় ঘেঁষা। এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার মতো। তুরতুরিখণ্ড পঞ্চায়েতের ভুটানঘাট, ফাঁসখাওয়া চা বাগান এলাকার নৈসর্গিক দৃশ্য সহজেই যেকারও নজর কাড়বে। এছাড়াও মধ্য কামাখ্যাগুড়ির আদি কামাখ্যা ধাম, কুমারগ্রাম থানা, বারোবিশার শিলবাংলো রেস্ট হাউজের মতো স্থাপত্যগুলি ইংরেজ আমলের ঐতিহ্য বহন করে চলছে। কিন্তু সরকারিভাবে এগুলি তুলে ধরার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।
কুমারগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ইতিহাস বিজড়িত স্থানগুলি সরকার যদি পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করে, তাহলে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, ঠিক তেমনই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। হবে অর্থনৈতিক উন্নতিও। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
বারোবিশার বাসিন্দা জয়দেব সরকার বলেন, আমাদের ব্লকে এমন কিছু স্থান আছে যেগুলি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের বিষয় হতে পারে। কিন্তু ওসব স্থানকে সেভাবে প্রচারের আলোয় তুলে আনা হয়নি। আশা করব, আমাদের স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ এই বিষয়ে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার পর্যটনের প্রসারে উদ্যোগ নেবেন। • পাহাড় ঘেঁরা কুমারগ্রামের ফাঁসখাওয়া চা বাগান এলাকা। - নিজস্ব চিত্র।