Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গার্ডওয়াল ভেঙে দুর্ভোগ, দ্বিতীয় সেতুর দাবি তুলছেন এলাকাবাসী

রামকৃষ্ণ সেতুর গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে যাওয়ার জেরে বাসিন্দাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তাই ফের দ্বিতীয় সেতুর দাবি জোরালো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই দ্বারকেশ্বর নদের উপর আরও একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা।

গার্ডওয়াল ভেঙে দুর্ভোগ, দ্বিতীয় সেতুর দাবি তুলছেন এলাকাবাসী
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রামকৃষ্ণ সেতুর গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে যাওয়ার জেরে বাসিন্দাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তাই ফের দ্বিতীয় সেতুর দাবি জোরালো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই দ্বারকেশ্বর নদের উপর আরও একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা। চলতি মরশুমে ফের তা নিয়ে বাসিন্দারা সরব হয়েছেন। পূর্তদপ্তর অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। হুগলির পূর্তদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতিপ্রকাশ ধর বলেন, দ্বিতীয় সেতুর সমীক্ষা হয়ে রয়েছে। সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিকল্পনা করছে। বর্তমান রামকৃষ্ণ সেতুতেও দ্রুত মেরামতি নিয়ে রাজ্য মনিটরিং করছে। সবদিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কাজ হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগে মাঝরাতে রামকৃষ্ণ সেতুর গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়ে। আরামবাগ থেকে গোঘাট যাওয়ার পথে রামকৃষ্ণ সেতুর বাঁদিকের মাঝামাঝি জায়গায় প্রায় ১৫মিটার অংশের কংক্রিট ফুটপাত সমেত গার্ডওয়াল ভেঙে নীচে ঝুলে যায়। তারপর থেকেই সেখানে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এমনকী, বাস চলাচলও বন্ধ হয়েছে। কালীপুর থেকে আরামবাগ কাটা সার্ভিস চলছে। কালীপুর থেকে টোটোয় চেপে যাত্রীরা আরামবাগে আসছেন। উল্টোদিকেও একইভাবে টোটোয় চেপে বাস ধরতে হচ্ছে যাত্রীদের। তার জেরে সকলে ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সেতুর দাবিতে সরব হয়েছেন যাত্রীরা। বাসমালিক সংগঠনও সেই দাবিতেই শান দিয়েছে।
আরামবাগের বাস-মিনিবাস অপারেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা মধুমিতা ভট্টাচার্য বলেন, আমরা জানি রামকৃষ্ণ সেতু দীর্ঘদিনের পুরনো। ইতিমধ্যেই সেতুর একাংশ ভেঙে গিয়ে বাস চলাচল বন্ধ হয়েছে। তার জেরে যাত্রী ও বাসকর্মীদের ভোগান্তি হচ্ছে। বাস চালানো নিয়ে আমাদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। রামকৃষ্ণ সেতু মেরামতিতে সময় লাগতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সেতু অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই, প্রশাসন দ্বিতীয় সেতু নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ করুক। স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য রায়, পলাশ অধিকারী বলেন, রামকৃষ্ণ সেতুর বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় একটি ব্রিজের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান সেতু দিয়ে পারাপার বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় সেতু হলে যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে রামকৃষ্ণ সেতু নির্মিত হয়। এই সেতুটি লম্বায় ৩২৫ মিটার ও চওড়ায় ৭ মিটার। কয়েক বছর আগেই সেতুটিকে দুর্বল বলে ঘোষণা করে পূর্তদপ্তর। কয়েকমাস আগেই সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষাও হয়েছে। কিন্তু মেরামতির কাজ হয়নি। সম্প্রতি সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ায় বিপত্তি হয়েছে। পূর্তদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, রামকৃষ্ণ সেতু মেরামতির কাজে রাজ্য পর্যবেক্ষণ করছে। সেতুর ভার কমাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় সেতু তৈরি নিয়েও আলোচনা চলছে। - নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ