নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘আনঅ্যাবেল টু প্রসেস ইয়োর রিকোয়েস্ট’—এহেন শব্দে পুজোর মুখে রীতিমতো নাজেহাল হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার রেল যাত্রী। তাদের বড়ো অংশের অভিযোগ, আইআরসিটিসির ওয়েবসাইট থেকে ট্রেনের অনলাইন টিকিট বুকিং করার সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এধরনের মেসেজ আসছে। বারবার চেষ্টা করেও মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটা যাচ্ছে না। অধিকাংশ সময়েই মোবাইল ফোন অথবা কম্পিউটারের পর্দায় ফুটে উঠছে একটিই বার্তা। ‘হাই লোড’-এর কারণে টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণ রেল যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ‘রি-ট্রাই’ করার জন্য। পুরো প্রক্রিয়া আবার নতুন করে শুরু করতে গেলে পরমুহূর্তেই দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্টে চলে যাচ্ছে ট্রেনের টিকিট। অথচ ‘হাই লোড’ সংক্রান্ত বার্তা আসার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ট্রেনে কনফার্মড টিকিটই পাওয়া যাচ্ছিল।
পুজো তথা উৎসবের মরশুমের প্রাক্কালে রেলের ডিজিটাল দালালরাজের এহেন নয়া উপদ্রবে জেরবার হয়ে পড়েছে সাধারণ রেল যাত্রীদের বড়ো অংশ। কখনো আচমকাই ওয়েবসাইট ‘লগ আউট’ হয়ে যাওয়া, কখনো ‘ক্যাপচা’ না মেলার মতো একাধিক সমস্যায় এমনিতেই নিত্যদিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে অনলাইনে টিকিট বুকিং করতে চাওয়া রেল যাত্রীদের। এবার ‘হাই লোড’-এর মতো নয়া সমস্যার উদ্ভবে সাধারণ রেল যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে। অসন্তোষে চিন্তায় রেল কর্তারাও। যদিও এর কোনো আশু সমাধানের রাস্তা এখনই বাতলাতে পারছেন না তাঁরা।
এরই মধ্যে উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে আপাতত সারা দেশে মাত্র শ’খানেক স্পেশাল ট্রেন চালানোর কথা জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। প্রধানত দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ছট উৎসবের কথা মাথায় রেখেই এর ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এমন অপর্যাপ্ত ট্রেনে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে রেল যাত্রীদের দুর্ভোগ। যদিও রেল বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, এটিই চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। ধাপে ধাপে উৎসব স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে যাত্রীদের চাহিদা দেখে নিয়ে। প্রতিবারই এই পদ্ধতি মেনে চলা হয়। কিন্তু স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি হোক বা না হোক, হাজার হাজার রেল যাত্রীর টিকিট বুকিংয়ের সময় একাধিক সমস্যার সুরাহা কীভাবে সম্ভব, তানিয়ে অবশ্য রেল বোর্ডের আধিকারিকরা সম্পূর্ণ অন্ধকারেই রয়েছেন।