Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তৃণমূলত্যাগী ১৭ এমপি যোগ দেবেন পদ্ম শিবিরেই: জগদীশ, উড়িয়ে দিলেন সুদীপ, কটাক্ষ শমীকের

এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ১৭ জন এমপি পুজোর আগেই বিজেপিতে যোগ দেবেন—কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়ার এহেন দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে।

তৃণমূলত্যাগী ১৭ এমপি যোগ দেবেন পদ্ম শিবিরেই: জগদীশ, উড়িয়ে দিলেন সুদীপ, কটাক্ষ শমীকের
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ১৭ জন এমপি পুজোর আগেই বিজেপিতে যোগ দেবেন—কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়ার এহেন দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। সোমবার কোচবিহারের সিতাইয়ের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তাঁর আরও দাবি, ২০ জনের মধ্যে মুর্শিদাবাদের তিনজন এমপি সংখ্যালঘু এলাকা থেকে নির্বাচিত। তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যাবেন না। তবে এনডিএ’র  শরিক হিসেবেই তাঁরা কাজ করবেন। বসুনিয়ার আরও দাবি, বিজেপির কথাতেই তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। গত ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পর দীর্ঘদিন কোচবিহার মুখো হননি জগদীশবাবু এবং তাঁর স্ত্রী তথা সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়। গত জুলাই মাসে বাড়িতে ফিরে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়ে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে সিতাই ছাড়তে হয় তাঁদের। রবিবার ভোরে ফের সিতাই ফিরতেই ফের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূলত্যাগী দম্পতিকে। এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে জমা ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়ে স্থানীয় তৃণমূল অফিসে। সেখানে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বের করা হয় ধিক্কার মিছিল। তবে এবার সিতাই ছাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি যে বিজেপির কতটা ‘কাছের’ হয়ে উঠেছেন, তা বোঝাতে এদিন সিতাইয়ের বাড়িতে বসুনিয়ার ব্যাখ্যা—‘যাঁরা বিক্ষোভ করছে, তাঁরা জানেননই না তাঁদের দলের প্রধানমন্ত্রী নেমতন্ন করে প্রাতঃরাশ খাওয়াচ্ছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বসে লাঞ্চ, ডিনার করছেন। কোচবিহার সাংসদের কথায়, আমি আর তৃণমূলে নেই।’     

Advertisement

তৃণমূল ভায়া এনসিপি হয়ে বিজেপিতে যাওয়া, কোচবিহার সাংসদের এই দাবিকে নস্যাৎ করেছেন এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও কয়েকজন সাংসদ। সুদীপবাবুর কথায়, এটা ওঁনার ব্যক্তিগত মত। এটা দলের বক্তব্য নয়। সুদীপবাবুরা যাই বলুন না কেন, কোচবিহারের সাংসদ যে থামবার পাত্র নন, তা বোঝা গিয়েছিল রবিবারই। তিনি যে বিজেপি’র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন, তা বোঝাতে তিনি সেদিন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমার সঙ্গে জেলার উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে কথা বলেন। আর এখানে কয়েকজন ছেলে মিছিল করছে। যেদিন রাজ্যের ও জেলার নেতারা তাদের বলবেন, তখন তারা বুঝবে। এই বক্তব্যের পর এদিন রাতে ফের বসুনিয়ার সিতাইয়ের বাড়ির সামনে গো-ব্যাক স্লোগান তুলে মিছিল হয়। এদিন বসুনিয়ার দাবি ছিল, বিজেপির সঙ্গে কথা হয়েছে, ওরা আমাদের আসন ছাড়বে, জোটসঙ্গী করবে। যদিও পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, যে বিজেপিতে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ারা যোগ দিতে চাইছেন, সেটা হয়তো মঙ্গলগ্রহের ভারতীয় জনতা পার্টি! যে কেউ যখন তখন বিজেপিতে যোগ দিতে চাইবেন, আর বিজেপি নিয়ে নেবে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। 
এনসিপিআই নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই বীরভূমের এমপি শতাব্দী রায় বলেন, আমার সঙ্গে কারও এরকম কোনো কথা হয়নি। এরকম খবর জানি না। যিনি বলেছেন, এর ব্যাখ্যা তাঁকেই দিতে হবে। বাঁকুড়ার এমপি অরূপ চক্রবর্তী বলেছেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আরামবাগের এমপি মিতালি বাগের কথায়, বিষয়টি নিয়ে সুদীপদাই বলবেন। মমতাপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের কথায়, তৃণমূলের টিকিটে জিতে বড়ো বড়ো কথা বলছেন বসুনিয়া। পদত্যাগ করে জিতে এসে দেখান!   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ