নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বর্ষার মুখে অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের দুলদুলি ফেরিঘাট সংলগ্ন রায়মঙ্গল নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ চললেও স্থায়ী সমাধান হিসাবে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণের দাবিতে অনড় স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গিয়েছে, দুলদুলি ফেরিঘাট সংলগ্ন রায়মঙ্গল নদীর বাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের মুখে ছিল। অতীতে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। বরং প্রয়োজন মতো ত্রিপল, দরমা ও মাটি ফেলে অস্থায়ী মেরামত করা হয়েছে। সেগুলি আবার নদীর প্রবল স্রোতে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের এই ক্ষোভ নিয়েই খবর প্রকাশিত হয় ‘বর্তমান’-এ। এরপরেই প্রশাসন উদ্যোগী হয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করেছে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বারবার অস্থায়ী মেরামতির বদলে এবার স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত কাজের নামে নিম্নমানের নির্মাণ যাতে না হয়, সে দিকেও নজর রাখার দাবি তুলেছেন তাঁরা। সুন্দরবনের এই এলাকায় প্রায় প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনের জেরে নোনা জল ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য শক্তপোক্ত বাঁধ নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণদাস জোতদার বলেন, আগের সরকারের সময়ে বহুবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান পাইনি। প্রতিবাদ করলে শুধু জোড়াতালি দিয়ে মাটির বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। আর বছর না ঘুরতেই তা ভেঙে গিয়েছে। সরকার ফের অস্থায়ীভাবে বাঁধ সারাই করছে। কিন্তু নতুন সরকারের কাছে আমরা কংক্রিটের স্থায়ী বাঁধ চাই। এবিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা
হবে। নিজস্ব চিত্র