সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: কালী ও কার্তিকের শহর নামে পরিচিত সোনামুখী। এখানে ছোটো ও বড়ো মিলিয়ে শতাধিক কালী ও কার্তিক পুজো হয়। যার সিংহভাগ প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয় শহরের দশেরপুকুরে। কিন্তু, বহু বছর ওই পুকুর সংস্কার করা হয়নি। তা মজে যায়। পুকুরের ঘাটও জরাজীর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি সোনামুখী কালী ও কার্তিক সমম্বয় কমিটির বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে থাকা রাজ্যের বন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার থেকে ওই পুকুরের সংস্কার কাজ শুরু হল। এতে শহরবাসী ভীষণ খুশি। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রায় ২৬ বছর পর দশেরপুকুর সংস্কারের কাজ হচ্ছে। দশেরপুকুরের সেই টলমল করা জল তাঁরা আবার দেখতে পাবেন। পাশাপাশি ভালভাবে প্রতিমা নিরঞ্জনও করা যাবে।
মন্ত্রী বলেন, কালী ও কার্তিক পুজো সোনামুখীর ঐতিহ্য। পুজো শেষে দশেরপুকুরে বেশিরভাগ প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। সমন্বয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি ওঠার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। তিনি তাতে সাড়া দেন। তারপরেই এদিন থেকে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। শুধু তাই নয়, নিরঞ্জনের পথে বেশকিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকার জন্য শোভাযাত্রার অসুবিধা হয়। ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। তাই বিদ্যুৎ দপ্তরকে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছিল। তাঁরা দ্রুততার সঙ্গে সেখানে মাটির তলা দিয়ে কেবল বসানোর তোড়জোড় করছে। সব মিলিয়ে এবারের সোনামুখীর কালী ও কার্তিক পুজো দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা মাত্রা পাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালী ও কার্তিকের শহর বলে পরিচিত সোনামুখীতে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রশাসন সহ সরকারি একাধিক দপ্তর এবং এলাকার বিশিষ্টজনদের নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে রয়েছেন বন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। নতুন সরকারের আমলে প্রথমবার কালী ও কার্তিক পুজো হচ্ছে। তাই সমন্বয় কমিটির সদস্যরা বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে তিনটি বৈঠক হয়ে গিয়েছে। পুজোর পাশাপাশি বিসর্জনের শোভাযাত্রা অন্যতম আকর্ষণ থাকে। বিশেষ করে অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট কালী ও কার্তিক প্রতিমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা বাহারি আলোকসজ্জা, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা করেন। তা দেখতে শহরে কার্যত জনজোয়ার সৃষ্টি হয়। তাই কোনোরকম বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য আগেভাগে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে পৃথক বৈঠকও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। কার্যত প্রহর গুনছে সোনামুখীবাসী।



