নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’জনের ধর্ম আলাদা। কিন্তু ভালোবাসার সামনে ধর্ম অন্তরায় হয়নি। যে কারণে ১৫ বছরের সেই প্রণয়ের সম্পর্ককে পরিণতি দিতে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন উলুবেড়িয়ার দুই তরুণ-তরুণী। কিন্তু সমাজ পিছু ছাড়েনি। ধর্মের দোহাই দিয়ে বাধা আসছিল বহুদিন ধরেই। সঙ্গে হুমকিও। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন যুগল। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি মাত্রাছাড়া হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সোমবার সেই মামলায় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণী নিজেদের পছন্দমতো বিয়ে করতে পারেন। আগামী ২৯ জুলাই যুগলের বিয়ের দিন যাতে কোনো বাধা বা অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
যুগলের অভিযোগ, এই বিয়ে না করার জন্য বাড়িতে এসে তাঁদের চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, পারিবারিক ব্যবসার ক্ষতি করা হবে। এদিন বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানিতে হবু দম্পতির পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘পরিবার নয়, তৃতীয় পক্ষের দিক থেকে এই বাধা আসছে। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অবিরত বাধা দেওয়া হচ্ছে। ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নোটিস দেওয়ার পর মেয়েটির বাবাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে আপত্তি জানাতে বলা হয়। হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’ সমস্ত অভিযোগ শোনার পর বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভারতীয় আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতি থাকলে বিয়েতে বাধা দেওয়া যায় না, সেটা ভিনধর্মে হলেও। তাই বিয়ের দিন পুলিশকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।’ রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার অবশ্য জানান, এই ঘটনায় পুলিশ আগে থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। যাতে অনুষ্ঠানে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে। তবে তাঁর দাবি, পরিবারের তরফেই এই বিয়েতে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। সবশেষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশকে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।