


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমের সিউড়ির ভূমিপুত্র এক বিজেপি নেতার আত্মীয়রা রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছেন, এমনই অভিযোগ তুলে সুর চড়াল তৃণমূল। ওই নেতা ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। তারপর থেকেই দলে তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি নেন।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেন, ওই বিজেপি নেতার একাধিক আত্মীয়ের নামে বিপুল সম্পত্তি কেনা হয়েছে। কীভাবে দু’বছরের মধ্যে তাঁরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠলেন, তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। বেশিরভাগ সম্পত্তি সিউড়ি এলাকায় কেনা হয়েছে।
তবে আত্মীয় বা আত্মীয়াদের নামে সম্পত্তি কেনা হলেও, ওই নেতা নিজের নামে জমি কেনেননি। দলেরই এক কর্মী ওই গেরুয়া নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে অভিযোগ করেছেন। ওই নেতা আগে অন্য পেশায় ছিলেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে যান। দলের ওই কর্মী কেন্দ্রীয় সভাপতিকে পাঠানো চিঠিতে লিখেছেন, বাবা, মা, শ্যালিকার নামে একের পর এক সম্পত্তি কিনেছেন তিনি। কুণালবাবু সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ওদের দলেরই একজন সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিযোগ করেছেন। ২০২৩-’২৫ সালের মধ্যে বিজেপির ওই গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে বিপুল সম্পত্তি তৈরি করেছেন। বেনামে কেনা প্রতিটি প্লটের নাম লিখে অভিযোগ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। ইডি, সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করা হোক। বিজেপি নেতারা কীভাবে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন? সিআইডির কাছে এই নথি পাঠাব। ডিজির কাছেও চিঠি দেওয়া হবে। রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে এটা ভয়ঙ্কর অভিযোগ। একজন নেতার কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কীভাবে হল, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।
কুণালবাবু আরও বলেন, সাংগঠনিক পরিকাঠামো ভাঙিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দলেরই কর্মীর চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। পদ দেওয়ার নামে ২০ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। সেই টাকায় সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এই অভিযোগ সত্যি হলে, তদন্ত করে পদক্ষেপ করা উচিত। দলের মধ্যে তদন্ত হতে পারে না। কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে এই কাজ করাতে হবে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নেতা আগেও বিতর্কে জড়িয়েছেন। বীরভূম জেলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে দলের একাংশ ক্ষুব্ধ। পদ দেওয়ার পাশাপাশি টিকিট বণ্টনের ক্ষেত্রেও ওই নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। অনেক অযোগ্যকে তিনি পদে বসিয়েছেন বলে দলেই অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু দিল্লির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকায়, এতদিন দল কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, কোনও নেতা যদি এরকম করে থাকেন, তাহলে দল ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু তৃণমূলের যাঁরা অবৈধভাবে টাকার পাহাড় করে জেল খেটেছেন বা জেল খাটার মতো অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ওরা কী ব্যবস্থা নিয়েছে? কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে উনি নাম করে বলছেন না কেন? ভাববাচ্যে কথা বলে লাভ নেই।