Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাস্তার পাশে থাকা গাছে লাগছে রিফ্লেক্টর

পরপর দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন বাঁকুড়া পুলিস এবার রাস্তার পাশে থাকা গাছে রিফ্লেক্টর লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাতে যাতে চালকরা রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করতে পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাস্তার পাশে থাকা গাছে লাগছে রিফ্লেক্টর
  • ২৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পরপর দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন বাঁকুড়া পুলিস এবার রাস্তার পাশে থাকা গাছে রিফ্লেক্টর লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাতে যাতে চালকরা রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করতে পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ও রাজ্য সড়ককে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তার বাঁকের কাছে থাকা গাছে ওই রিফ্লেক্টর লাগানো হচ্ছে। বাঁকুড়া জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, রাস্তার পাশে সব জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি নেই। সেই কারণে আমরা গাছে রিফ্লেক্টর লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলাজুড়েই বিভিন্ন থানা ও ট্রাফিক পুলিসের উদ্যোগে তা লাগানো হচ্ছে। লাল, হলুদ, সাদা ও কমলা রঙের ফিতে জাতীয় রিফ্লেক্টর গাছে লাগানো হচ্ছে। দুর্ঘটনায় রাশ টানতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় প্রতি বছর দুর্ঘটনায় কমবেশি ২০০ জনের মৃত্যু হয়। বেশিরভাগ মৃত্যু হয় বাইক আরোহীদের। বিনা হেলমেটে বাইক চালানোর ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। মাথায় হেলমেট থাকার কারণে গুরুতর জখম হওয়ার পরেও বহু বাইক আরোহী পরবর্তীকালে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন, এমন উদাহরণও বহু রয়েছে। ফলে বাইক আরোহীদের হেলমেট পরার উপরেই পুলিস কর্তারা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। তারজন্য নিয়মিত রাজ্য ও জাতীয় সড়ক সহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি নাকা চেকিং চলছে। জরিমানা আরোপ করেও বেপরোয়া বাইক চালকদের বাগে আনার চেষ্টা চলছে। একইরকমভাবে চারচাকা গাড়ির সামনে আসনে বসা চালক ও আরোহীদের সিট বেল্ট পরার উপরেও পুলিস জোর দিয়েছে। পুলিস আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন যানবাহনের মধ্য সংঘর্ষের জেরে যেমন দুর্ঘটনা ঘটে, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা গাছে ধাক্ক মেরেও অনেকেও প্রাণ হারান। বাইক ও ছোট চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে ওই ধরের ঘটনা বেশি ঘটে। ওই ধরনের দুর্ঘটনা রাস্তার বাঁকের মুখেই বেশি ঘটে থাকে। সম্প্রতি গঙ্গাজলঘাটি, তালডাংরা, রানিবাঁধ থানা এলাকায় ওই ধরনের দুর্ঘটনায় অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। তারফলে জেলা পুলিসের তরফে গতবারের তুলনায় এবছর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, তা ধাক্কা খেয়েছে। ফলে পুলিস কর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। 

Advertisement

এক পুলিস আধিকারিক বলেন, কোনও এলাকায় দুর্ঘটনায় দুই বা ততোধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই ডিএসপি বা অ্যাডিশনাল এসপি পদমর্যাদার আধিকারিকদের এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। তাঁরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুলিস সুপারের কাছে রিপোর্ট জমা দিচ্ছেন। রাস্তাঘাটে বিপজ্জনক বাঁক ও আলোর অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। সেই কারণে আমরা রাস্তার বাঁকের দু’দিকে থাকা গাছগুলিতে রিফ্লেক্টর লাগাচ্ছি। যানবাহনের হেডলাইটের আলো পড়ামাত্র রিফ্লেক্টর জ্বলজ্বল করবে। তারফলে চালক রাস্তার শেষ সীমা বা সামনের বাঁক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবেন। তারফলে তিনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বেশ কিছুটা সুযোগ পাবেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ