


শ্যামলেন্দু গোস্বামী , বারাসত:
দুপুর দেখেই আঁচ করা যাচ্ছিল, কালীপুজোর পরের দিনও জনস্রোতে ভাসতে চলেছে বারাসত। বিকেলের পরই স্পষ্ট হয়ে গেল, সেই ধারণা ভুল নয়! মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে দর্শনার্থীদের ঢল নামে বারাসতের বিভিন্ন মণ্ডপে। সন্ধ্যায় তা জনপ্লাবনের চেহারা নেয়। পিছিয়ে ছিল না পাশের শহর মধ্যমগ্রামও।
সকাল থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত কোনও ‘নো-এন্ট্রি’ ছিল না। ফলে ভরদুপুরে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় বারাসতে। ভিড় সামাল দিতে পুলিশের নির্দেশে নবপল্লি অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমরা সবাই, কেএনসি রেজিমেন্ট সহ একাধিক বিগ বাজেটের পুজো কমিটিগুলি মণ্ডপে ঢোকার মুখে রাস্তায় গর্ত করে শক্তপোক্ত বাঁশ, শালবল্লা ও গার্ডরেল দিয়ে ব্যারিকেড করে। সেখান থেকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়। তবে অনেকেই বলছেন, কালীপুজোর পরের দিনও রেকর্ড ভিড়ের সাক্ষী থাকল বারাসত। দুপুরের দিকে এদিন ভালোই গরম ছিল। কিন্তু সেসব থোড়াই কেয়ার করে কাতারে কাতারে উৎসবমুখর মানুষ বেরিয়ে পড়ে কালীপ্রতিমা দর্শনে। দুপুর গড়াতেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে যশোর রোড, টাকি রোড সহ কেএনসি রোড, নবপল্লি সার্কুলার রোড থেকে শহরের অলিগলির রাস্তাও চলে যায় মানুষের দখলে। দর্শনার্থীদের ঢল সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের কর্তাদের। ডাকবাংলো মোড় থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে রাস্তার দু’ধারে শহরের অধিকাংশ বড় বাজেটের পুজো। যশোর, টাকি রোডে ভিড় হলেও ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের জনস্রোত ছিল সবচেয়ে বেশি। এদিকে, বহু দর্শনার্থী ট্রেন থেকে নেমে পাইওনিয়র ক্লাবের পুজো দেখে জাতীয় সড়ক ধরে শহরের অন্যান্য পুজো দেখতে ভিড় করেন। সময় যত গড়িয়েছে, ততই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভিড়। শহরের কোন কোন প্যান্ডালে কত সংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় হয়েছে, একাধিক জায়গায় লাগানো এলইডি স্ক্রিন থেকে তা জেনে নিয়ে ‘মনিটরিং’ করেছে পুলিশ। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বড় প্যান্ডালগুলিতে গেট করা হয়েছে। কিন্তু ভিড়ের চাপে সেই গেট ভেঙে গিয়েছে অনেক জায়গাতেই। এমনই এক গেটের কাছে একদল তরুণ-তরুণীকে বলতে শোনা গেল, ‘হাতে সময় কম। এত নিয়ম মানতে গেলে তো এক-দুটো ঠাকুর দেখে বাড়ি ফিরতে হবে!’ ভিড়ের ঠেলায় অনেকের জুতোর ফিতে ছিঁড়ে যায়।
ব্যারিকেড পেরিয়ে এগিয়ে গিয়ে এর তরুণী কলোনি মোড়ে পুলিশের গেট পেরোলেন। হাতে ঠান্ডা জলের বোতল ও রুমাল। পিছন ফিরেই হঠাৎ দেখলেন, তাঁর সঙ্গী নেই! চোখ ছলছল। দিশেহারা হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেন। এর মধ্যেই সঙ্গীর ফোন ঢুকল তাঁর মোবাইলে। জানতে পারলেন, ভিড়ের ঠেলায় তাঁর সঙ্গী এগিয়ে চলে গিয়েছে অনেকটা। পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘মঙ্গলবার বাহিনী বাড়ানো হয়েছে।’ এদিন সন্ধ্যায় বারাসতের কলোনি মোড়ে রাস্তার উপরে নির্মিত আলোর তোরণে শর্টসার্কিট থেকে আগুন ধরে যায়। পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।