নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পিছনে ছিল মৃত্যুর হাতছানি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল একটি ডাম্পার। সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনজন পুলিশকর্মী সহ সাতজন। মাঝখানে ঢাল হয়ে দাঁড়াল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি বিশেষ গাড়ি। ডাম্পারের ধাক্কা সামলে নিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে সাতজনকে ফিরিয়ে দিল সেই গাড়ি। শুক্রবার ভোররাতে হাওড়ার জয়পুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ডানকুনি লেনের রেল ওভারব্রিজের কাছে এই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সাতজন। তবে ডাম্পারের ধাক্কায় গাড়িটির পিছনের অংশ দুমড়ে গিয়েছে। ডাম্পারটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
কীভাবে সম্ভব হল এতবড়ো দুর্ঘটনা এড়ানো? এর নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ প্রযুক্তির একটি গাড়ি, যার নাম ট্রাক মাউন্টেড অ্যাটেনুয়েটর বা টিএমএ। মূলত রাস্তা মেরামতি ও নির্মাণকাজের সময় কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। কাজের জায়গার পিছনে ছায়া বাহনের মতো দাঁড়িয়ে থাকে এটি। কোনো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কর্মীদের দিকে ছুটে এলে টিএমএ’র পিছনের দিকে বিশেষ ক্র্যাশ কুশনে ধাক্কা মারে সেটি। ওই অংশ সংঘর্ষের গতিশক্তি শুষে নিয়ে ধাক্কার অভিঘাত কমিয়ে দেয়। ফলে সরাসরি কর্মীদের উপর গাড়ি উঠে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি সংস্থা জাতীয় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজের বরাত পেয়েছে। সংস্থাটি তাদের কর্মীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল। বিশেষত যে জায়গায় যানবাহনকে অন্য রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে দুর্ঘটনা এড়াতে টিএমএ রাখা হয়।
শুক্রবার ভোর ৩টে নাগাদ রাস্তা সংস্কারের কাজ চলাকালীন আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ডাম্পার কাজের জায়গার দিকে ছুটে আসে। তখনই সামনে থাকা টিএমএতে ধাক্কা মারে সেটি। গাড়িটির বিশেষ প্রযুক্তি ডাম্পারের গতিশক্তি শুষে নেওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান সাতজন। সংস্থার কর্মী শেখ ইনজামুল হোসেন জানান, জাতীয় সড়কে বিশেষত রাতের দিকে কাজ করার সময় যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কর্মীদের সুরক্ষায় বেলজিয়াম থেকে এই গাড়ি আনা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এরাজ্যে তারাই প্রথম এই প্রযুক্তির গাড়ি ব্যবহার করছে। ওই রাতে গাড়িটি না থাকলে সাতজনের প্রাণহানি হতে পারত। জাতীয় সড়কে কর্মীদের নিরাপত্তায় প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ হল।



