শ্যামল পাল, বাগডোগরা: আধুনিকতার ছোঁয়ায় কাঠের রথ কমে এলেও আজও নিম ও বেল কাঠ দিয়ে তৈরি হয় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি। নিম ও বেল কাঠ দিয়ে প্রভু জগন্নাথের মূর্তি তৈরি করতে এক বছর অপেক্ষা করেছেন গৌতম ও তাঁর সহকারীরা। তাঁদের তৈরি প্রভূর মূর্তি আজ রথে চড়ে দর্শন দেবেন ভক্তদের। শিলিগুড়ি মহকুমার বিভিন্ন রথ কমিটিও আজ পথে নামবে।
প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী রথযাত্রায় জগন্নাথ রথে চড়ে তাঁর মাসির বাড়ি বেড়াতে যান। যাওয়া এবং সেখান থেকে ফিরে আসা মিলিয়েই সোজা রথ ও উল্টো রথ। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্যে ধুমধামের সঙ্গে এই রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। তবে আজও জগন্নাথের মূর্তি দুই ধরনের কাঠ দিয়েই তৈরি হয়। তাই রথের কয়েকমাস আগে উন্নতমানের নিম ও বেল কাঠ সংগ্রহ শুরু করেছিলেন মাটিগাড়া ব্লকের শিবমন্দিরের বাসিন্দা গৌতম রায় ও তাঁর সহকারী। বহু বছর ধরেই তাঁরা জগন্নাথ দেবের মূর্তি তৈরি করে আসছেন। শিবমন্দির থেকে বিভিন্ন জেলায় এই মূর্তি গিয়েছে পূর্বে। এবছর ঘোষপুকুরের একটি রথের মূর্তিও ইতিমধ্যে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গৌতম বলেন, আমার বাবা প্রয়াত শচীন্দ্রনাথ রায়ের হাত ধরে জগন্নাথের মূর্তি তৈরি শুরু হয়েছিল। বাবা সরকারি কর্মচারী ছিলেন। তবে মূর্তিশিল্পী হিসেবে খ্যাতি ছিল তাঁর। বাবার সেই সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা করেছি আমি। গতবছর মাটিগাড়া, মেডিক্যাল, গোঁসাইপুর সহ কয়েকটি রথের মূর্তি আমার হাতে তৈরি। এছাড়া রথের ঘোড়া ও সাজসজ্জার জিনিসও তৈরি করি। আমি এবং আমার সহকারীরা প্রতিবছর এই রথের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এদিকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তের পথে কাঠের রথ। কদর কমছে রথ তৈরির কারিগরদের। জগন্নাথের রথযাত্রায় বরাবর কাঠের তৈরি রথ ব্যবহার হয় একটা সময়। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কাঠের রথের সংখ্যা কমেছে। বর্তমানে ছোট. বড় মিলিয়ে প্রায় অধিকাংশ রথ লোহার। খরচ কম, টেকসই বলে মানুষ লোহার তৈরি রথ ব্যবহার করছে বর্তমানে। এতে শিল্পী ও কারিগরদের কদর কমছে বলে মত অধিকাংশ কারিগর ও শিল্পীদের।
বাগডোগরা, গোঁসাইপুর, শিবমন্দির, রানিডাঙা ও মাটিগাড়া সহ পার্শ্ববর্তী সমস্ত রথ কমিটিগুলি ধুমধামের সঙ্গে রথযাত্রা পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বাগডোগরা শ্রীকলোনির হরিমন্দিরে এবছর লক্ষাধিক টাকা খরচ করে নতুন লোহার তৈরি রথ আজ পথে নামবে। ওই রথ কমিটির সদস্য মলয় দাস জানান, প্রায় ৬৫ বছর ধরে এখানে রথযাত্রা পালিত হয়ে আসছে। সেই সময় মতি ঘোষ, নিবারণ ঘোষ, সুবল পাল, শৈলেন্দ্রনাথ দত্ত, জগদীশ রায়, কৃষ্ণ ঘোষ প্রমুখ প্রথম এই রথযাত্রা শুরু করেছিলেন। তখন থেকে কাঠের তৈরি রথ ব্যবহার হতো রথযাত্রায়। ১০-১২ বছর পর পর সেই রথ বদল করা হতো। তবে, বর্তমানে লোহার তৈরি রথই তৈরি হয়। এছাড়াও সমস্ত রথ যাত্রায় ছোট, বড় মেলার মাধ্যমে এই রথযাত্রা ঐতিহ্যের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। গৌতম রায়। - নিজস্ব চিত্র।