Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রথযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভিড় মেলায়

দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর সেখানে এইবার প্রথম রথযাত্রার আয়োজন হয়েছে। যাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে।

রথযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভিড় মেলায়
  • ২৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর সেখানে এইবার প্রথম রথযাত্রার আয়োজন হয়েছে। যাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। প্রতিটি ব্লক ও পুরসভাগুলি থেকে জায়েন্ট স্ক্রিন বসিয়ে দীঘার রথযাত্রার অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হয়। তবে, গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত জেলাগুলিও পিছিয়ে নেই। ইতিহাস আর ঐতিহ্যর মেলবন্ধনে বীরভূম জেলার নানা প্রান্তে রথযাত্রা ও মেলা জমে উঠেছে। জেলার সদর শহর সিউড়ি থেকে শুরু করে দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া সহ রামপুরহাট ও বোলপুরেও রথযাত্রায় আমজনতার ঢল নেমেছে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জেলার নানা প্রান্তে ছোটবড় মেলার আসরও বসেছে। কোথাও উল্টোরথ পর্যন্ত একটানা মেলা চলবে। আবার কোথাও একদিনের মেলার আয়োজন হয়েছিল। প্রতিটি মেলাতেই আট থেকে আশির ভিড় ছিল নজর কাড়া। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিসও তৎপর ছিল। তবে, রথযাত্রার দিন ক্ষণিকের বৃষ্টি সিউড়ি ও বোলপুরের একাধিক মেলায় পসরা সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ীদের মনে কিছুটা ভয় ধরিয়েছিল। 

Advertisement

জেলার সদর শহর সিউড়ির একাধিক জায়গায় রথযাত্রা উপলক্ষ্যে মেলার আসর বসেছিল। তবে বেশিরভাগ মেলাই ছিল একদিনের। যদিও শহরের রক্ষাকালীতলায় রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাতদিন ব্যাপী মেলার আসর বসেছে। জিলিপি, পাপড় ভাজা সহ রকমারি খাবারের দোকানের স্টল মেলা চত্বরে নজরে এসেছে। এছাড়াও কচিকাঁচাদের নজর কাড়তে খেলনার দোকানের সংখ্যাও নেহাত কম ছিল না।
অন্যদিকে, সিউড়ির দুবরাজপুরে হেতমপুরে রথযাত্রা ইতিহাসের সাক্ষী ও  ঐতিহ্য বহন করে আসছে। সেখানে রাজ আমলের রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে চাপিয়ে ঘোরানো হয়। প্রায় এক দশকের বেশি সময় বাদে সেই রথে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুও চেপেছেন। ঐতিহ্যবাহী ওই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে হেতমপুরে একদিনের জন্য মেলা বসে। সেখানেও মানুষের ঢল নেহাত কম ছিল না। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ রথযাত্রায় উপস্থিত হয়েছিলেন। রথের দঁড়িতে টান দেওয়ার পরই ভিড় করেন মেলা চত্বরে। 
জেলার বোলপুর ও রামপুরহাটেও রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জমজমাট মেলার আয়োজন হয়। রামপুরহাটে ইস্কনের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুরসভা সংলগ্ন এলাকায় মেলার আসর বসেছে। ইস্কনের রথযাত্রার সূচনা করেন, ডেপুটি স্পিকার তথা বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, মল্লারপুরের বীরচন্দ্রপুরের জগন্নাথবাড়ি থেকেও রথযাত্রার সূচনা হয়। সেখানেও রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন হয়। বোলপুরের সতীপীঠ কঙ্কালীতলা, রেল ময়দান সহ একাধিক জায়গায় ছোট ছোট মেলার আয়োজন হয়। রথযাত্রার মেলায় পাপড় ও জিলিপির সম্ভার সাজিয়ে বসেছিলেন রঞ্জিত বাগদি। তিনি বলেন, প্রতি বছরই রথের মেলায় পসরা সাজিয়ে বসি। এবছরও শুরু থেকেই ভালো সাড়া মিলছে। আশা করছি, ব্যবসা ভালো হবে। অপর এক ব্যবসায়ী শেখ হাফিজুল বলেন, বছরভর বিভিন্ন মেলায় দোকান করে সংসার চলে। এবছর ফের রথের মেলায় দোকান সাজিয়ে বসেছি। আকাশে মেঘের ঘনঘটায় খানিকটা চিন্তা হচ্ছে। তবে আশা করছি ব্যবসা ভালোই হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ