দীঘা ও পুরী, ২৭ জুন: আজ, শুক্রবার রথযাত্রা। সাজ সাজ রব দীঘায়। অক্ষয় তৃতীয়ায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনের পর এই প্রথম এখানে পালন হবে রথযাত্রা উৎসব। যার সাক্ষী থাকতে পূণ্যার্থীদের ঢল নামতে শুরু করে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই। রথযাত্রায় রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়ে রেখেছিল আবহাওয়া দপ্তর। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে সৈকত নগরীতে। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়ছে মন্দির চত্বরে। বুধবারই দীঘায় এসে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রথযাত্রা ঘিরে সাজসাজ রব পুরীতেও। জগন্নাথ দর্শনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে ভিড় জমিয়েছেন ভক্তরা। সেকথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শহর।
গতকাল, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই দীঘায় ‘নন্দীঘোষ’ (জগন্নাথদেবের রথ), ‘তালধ্বজ’ (বলরামদেবের রথ) এবং ‘দর্পদলন’ (দেবী সুভদ্রার রথ) মন্দিরের সামনের রাস্তায় নিয়ে আসা হয়েছে। মন্দিরের এক নম্বর গেটের বাইরে রাখা হয়েছে সুসজ্জিত তিনটি রথ। সকাল থেকে শুরু হয়েছে পূজাপাঠ। সকাল ৯টায় চালু হয় ‘পাহান্ডি বিজয়’। অর্থাৎ, কীর্তন ও নৃত্যের মধ্যে দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার নিম কাঠের বিগ্রহ কোলে করে নিয়ে আসা হবে রথে। পাথরের বিগ্রহ দর্শনের জন্য রথের দিন থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত খোলা রাখা হবে মন্দির। দুপুর দুটোয় রথের সামনে বিশেষ আরতির আয়োজন করা হয়েছে। যাতে যোগ দেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
সোনার ঝাড়ু তৈরির জন্য পাঁচ লক্ষ এক টাকা দিয়েছিলেন মমতা। সেই ঝাড়ু দিয়েই এদিন জগন্নাথদেবের যাত্রাপথ সাফ করবেন তিনি। এরপর ঠিক বেলা আড়াইটের সময় রথের চাকা গড়াতে শুরু করবে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে। গোটা যাত্রাপথে দু’দিকে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ ব্যারিকেডের ভেতর থেকেই রথের রশি (বাসুকী নাগ) স্পর্শ করতে পারবেন। পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা এড়াতে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে দেওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।