Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সামনে এল রেজিস্ট্রেশন বিক্রির রেট চার্ট, এমএস ১ কোটি ২০ লক্ষ, অর্থপেডিক ১ কোটি ৮০!

যেমন ডিগ্রি তার জন্য তেমন ‘কড়ি’ ফেলতে হবে। তারজন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই। স্কুলের গণ্ডি না পেরলেও হত।

সামনে এল রেজিস্ট্রেশন বিক্রির রেট চার্ট, এমএস ১ কোটি ২০ লক্ষ,  অর্থপেডিক ১ কোটি ৮০!
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: যেমন ডিগ্রি তার জন্য তেমন ‘কড়ি’ ফেলতে হবে। তারজন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই। স্কুলের গণ্ডি না পেরলেও হত। শুধু বর্ধমানের ‘হক’-এর কাছে নোটের বান্ডিল পৌঁছে দিলেই মিলত রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। সেই রেটচার্ট টেকনিশিয়ান বা কমপাউন্ডারদের মোবাইলে ঘুরছে। এমবিবিএস সার্টিফিকেট সে ৫০-৬৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তকমা পেতে হলে বেশি টাকা খরচ করতে হত। রেটচার্ট অনুযায়ী এমএস সার্টিফিকেট বা রেজিস্ট্রেশন পেতে ১ কোটি ২০লক্ষ টাকা ‘হক’ এর হাতে তুলে দিলেই হত। অর্থোপেডিক এক কোটি ৮০লক্ষ, গাইনি ১ কোটি ৫০লক্ষ, অ্যানাস্থেটিস্ট ৮০লক্ষ, রেডিওলজিস্ট দু’কোটি এবং শিশুদের চিকিৎসার জন্য পেডিয়াট্রিকে ১ কোটি ৩০লক্ষ টাকা ‘রেট’ ধার্য করা হয়েছিল। সে রেজিস্ট্রেশন বিক্রির জন্য রীতিমতো প্রচার চালাত। সেই অডিও এখন চিকিৎসক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

Advertisement

‘হক’এর এক পরিচিত বলেন, পরিচিত টেকনিশিয়ান বা কমপাউন্ডারদের সে রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিত। তবে অর্ধেক টাকা তাকে আগেই দিয়ে দিতে হত। বর্ধমান শহরের অনেকেই তাকে টাকা দিয়ে ডাক্তারি সার্টিফিকেট নিয়েছে। চার মাস আগেও সে একজনকে রেজিস্ট্রেশন জোগাড় করে দিয়েছে। এমএস সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য একজন তাকে অগ্রিম এক কোটি টাকা কয়েকদিন আগে দিয়েছে। তার আগেই ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন চক্রের পর্দা ফাঁস হয়ে যায়। 
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন চক্র নিয়ে তদন্তে নেমে আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচজনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। তারমধ্যে বর্ধমানের সাইদুল হকও রয়েছে। কয়েকদিন আগে বর্ধমানের নবাবহাটের কাছে একটি নার্সিংহোমে তার বিরুদ্ধে ভুল অপারেশন করার অভিযোগ ওঠে। সে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অপারেশন করে। কিন্তু ফাইমোসিস অপারেশন করতে গিয়ে চার বছরের শিশুর মৃত্যু হওয়ায় সে আদৌ ডাক্তার কিনা তা নিয়ে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ জমা হতেই ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। মৃত শিশুর পরিবার সাইদুল হক এবং চিকিৎসক বনোজ দে’র নামে বর্ধমান থানায়ও অভিযোগ করেন। যদিও পুলিশ এখনও তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়নি।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ওই নার্সিংহোম বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে ভুয়ো চিকিৎসকের ছড়াছড়ি। আমাদের সঙ্গে একই স্কুলে আর্টস নিয়ে একজন পড়তেন। তিনিও এখন দেখছি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রাকটিস করছেন। এখনও পর্যন্ত পুলিশ কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি তা বোঝা যাচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ভুয়ো ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ পাঁচটি ধারায় এফআইআর করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ