Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভিনব পুজোর উদ্যোক্তা রটন্তি ক্লাব ও পাঠাগার, জলপাইগুড়ির বিলপাড়ায় উঠে আসছে রাঢ়বঙ্গের গ্রাম, থাকছেন ছৌ শিল্পীরাও!

তিস্তাপাড়ের শহর জলপাইগুড়িতে এবার পুজোয় এক টুকরো ‘লালমাটির দেশ’! উদ্যোক্তা বিলপাড়া রটন্তি ক্লাব ও পাঠাগার।

অভিনব পুজোর উদ্যোক্তা রটন্তি ক্লাব ও পাঠাগার, জলপাইগুড়ির বিলপাড়ায় উঠে আসছে রাঢ়বঙ্গের গ্রাম, থাকছেন ছৌ শিল্পীরাও!
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তিস্তাপাড়ের শহর জলপাইগুড়িতে এবার পুজোয় এক টুকরো ‘লালমাটির দেশ’! উদ্যোক্তা বিলপাড়া রটন্তি ক্লাব ও পাঠাগার। এবার তাদের পুজোর থিম ‘বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’। এই থিম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে রাঢ়বঙ্গের গ্রাম। মাটির দেওয়াল, খড়ের ছাউনি দেওয়া সেখানকার বনেদি বাড়ির আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। গ্রাম্য বধূর বেশে এখানে দেখা যাবে মা দুর্গাকে। যার পরনে থাকবে আটপৌরে তাঁতের শাড়ি। প্রতিমা শিল্পী দুষ্মন্ত সূত্রধর। অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে জলপাইগুড়ি শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে এই পুজো মণ্ডপে দেখা মিলবে পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীদের। পুজোর ক’দিন মণ্ডপ চত্বরে ছৌ নৃত্য পরিবেশন করবেন তাঁরা। মণ্ডপে থাকছে শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শন ও দশাবতার। পুজো উদ্বোধনেও অন্য ভাবনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। শহরের বিশিষ্টদের পাশাপাশি প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকলেও বিলপাড়ার এই পুজোর উদ্বোধন হবে একজন রিকশচালকের হাতে। বাংলার মেহনতি মানুষকে সম্মান জানাতেই এমন ভাবনা। 

Advertisement

পুজো কমিটির সম্পাদক নব্যেন্দু মৌলিক বলেন, যাঁরা সবসময় মঞ্চের নীচে থাকেন, তাঁদের আলোয় নিয়ে আসতেই এমন উদ্যোগ। ভাবনা থেকে উপস্থাপনা সবেতেই এবার আমরা জলপাইগুড়ির পুজোগুলিকে টেক্কা দেব, এটা হলফ করে বলতে পারি।
১৯৫৬ সাল থেকে মূলত ভূমিহীন উদ্বাস্তুরা জলপাইগুড়ির বিলপাড়ায় এসে বসবাস শুরু করেন। তখন থেকে এলাকায় প্রতিবছর সরস্বতী পুজোর ছ’দিন আগে রটন্তি কালীর পুজো এবং শীতলাপুজো হয়ে আসছে। এরপর এলাকার বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নেন, দুর্গাপুজোও করবেন তাঁরা। সেইমতো গত ২৬ বছর ধরে দশভুজার আরাধনা হচ্ছে বিলপাড়ায়। পুজো উপলক্ষ্যে মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বসে আঁকো, গান-নৃত্য ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। পুরস্কার দেওয়া হবে ষষ্ঠীতে। সেদিন পুজো মণ্ডপে বসবে ভাওয়াইয়া গানের আসর। অষ্টমীতে ভোগ বিতরণ। রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদান আর এলাকার বাসিন্দাদের চাঁদাতেই এই পুজোর আয়োজন।
বিশ্বজিৎ মজুমদার নামে স্থানীয় এক শিল্পী মণ্ডপ তৈরি করছেন। প্যান্ডেলে খড় ও বাঁশের কাজ করছেন আরএক স্থানীয় শিল্পী নারু দাস। পুজো কমিটির সভাপতি বাদল মজুমদার, সম্পাদক নব্যেন্দু মৌলিকের পাশাপাশি ক্লাব সদস্য মনোজ বালা, সপ্তর্ষি সান্যালরা নাওয়াখাওয়া ভুলে পুজোর আয়োজনে ব্যস্ত। জলপাইগুড়িবাসীকে এক ‘অন্যপুজো’ উপহার দেওয়াই লক্ষ্য তাঁদের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ