রাঁচি, ১০ আগস্ট: দিল্লি-বিহারের পর এবার ছাত্র আন্দোলনে প্রতিবাদের ঢেউ ঝাড়খণ্ডে। আর সোমবার সকাল থেকেই তা রূপ নিল রণক্ষেত্রের। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠল ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি। এদিন বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে হাজার হাজার পড়ুয়া শহরে এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁদের মূল দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে জল কামান ব্যবহার করে পুলিশ। আর তাতেই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জলকামানের প্রবল স্রোতের মুখেও আন্দোলনকারীদের একাংশকে তীব্র প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র মাহাতো, যিনি অনশনেও বসেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের পুলিশের সঙ্গে তর্কে না জড়ানোর আবেদন জানান। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিকল্প পথে বিধানসভায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ব্যারিকেড বসিয়েছে প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে রাঁচির অধিকাংশ স্কুলও এদিন বন্ধ রাখা হয় বলে খবর প্রশাসন সূত্রে। আন্দোলনকারীদের রাঁচিতে আসার সংখ্যা কমাতে জেলা সীমানা, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং জাতীয় সড়কে বাস ও অন্যান্য যানবাহনগুলিতে দফায় দফায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগই এবারের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রায় ১৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য সরকারের তরফে একাধিকবার আলোচনায় বসা হলেও এখনও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। বরং আরো জোরালো হচ্ছে এই আন্দোলন। রবিবার আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের ষষ্ঠ দফার বৈঠকেও কোনো আশানুরূপ ফল মেলেনি। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে। তবে সরকারের দাবি, পড়ুয়াদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের দাবি অনুযায়ী ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিল করার বিষয়ে সরকার সম্মতি দিয়েছে। ফলে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়।