Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬

পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা হেমন্তের

পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে জেনজির বিক্ষোভ উত্তাল ঝাড়খণ্ড। ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে হেমন্ত সোরেন সরকার।

পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা হেমন্তের
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাঁচি: পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে জেনজির বিক্ষোভ উত্তাল ঝাড়খণ্ড। ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে হেমন্ত সোরেন সরকার। পাঁচদফা বৈঠক সম্পন্ন। কিন্তু, কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। এই আবহে রবিবারও দু’পক্ষ আলোচনায় বসে। তাও কার্যত ব্যর্থ। তারপরই আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়েছেন, ওই পরীক্ষা বাতিল, পিএসসির সংস্কার ও সিবিআই তদন্ত—সমস্ত দাবি না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সমাধানসূত্র অধরা থাকায় আজ, সোমবার পড়ুয়াদের বিধানসভা অভিযান কর্মসূচি হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন সদস্যের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ার। 

Advertisement

এরইমধ্যে  মুখ্যমন্ত্রী হেমন্তের বার্তা,  লাঠি, ডান্ডা বা বন্দুক নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে রাজ্যের এই উত্তাল ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড ক্রমেই আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। রাজ্যের গণতান্ত্রিক আবহ নষ্ট করতে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যাঁরা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য যুব সম্প্রদায়কে ভুলপথে চালিত করছে তাঁদেরও সতর্ক করেছেন সোরেন। নিশানায় ছিল বিজেপি। সোরেনের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বেশ কিছু বুদ্ধিজীবীও পড়ুয়াদের মিথ্য ও ভুল তথ্য পরিবেশন করছে। এরপরই জেনজিকে তাঁর আশ্বাস, পড়ুয়াদের উদ্বেগ আমি অনুধাবন করতে পারছি। পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্তদের কেউই ছাড় পাবে না। তাদের কড়া শাস্তি হবে। তাঁর সংযোজন, সীমান্তে শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য অস্ত্রের দরকার। আন্দোলনকারীদের কথা দিচ্ছি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ্বতার সঙ্গে আপনারা সুবিচার পাবেন। দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। 
এরমধ্যে ২০২৪ সালের ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের কমিটি-কমবাইন্ড গ্রাজুয়েট লেভেল পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে সিআইডি তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও পরে এই রিপোর্ট খারিজ করে দেয় রাজ্য সরকার। প্রশাসন জানায়, কোনো অনিয়ম হয়নি। কিন্তু, ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সেই রিপোর্ট নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সিআইডি তদন্তের ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছিল চক্রের মাথারা। হাজারিবাগ, জামসেদপুর, পাটনা, পশ্চিমবঙ্গ, এমনকী নেপালেও তা পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্রের ১৫০টির মধ্যে ১২০টিই ফাঁস হয়েছিল। যদিও আগের রিপোর্টকে হাতিয়ার করে সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে আন্দোলনকারীরা। এরমধ্যে তাঁদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী 
রাঁচি আসতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ