Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬

বছরে ৪৭৯ কোটি তুলবে কেন্দ্র, জল জীবনে ‘কর’ চাপছে বঙ্গবাসীর কাঁধে

বাড়িতে যাচ্ছে পাইপলাইন। মিলবে জলও। তবে তার জন্য গুনতে হবে গাঁটের কড়ি। বেঁধে দেওয়া হচ্ছে জল খরচের পরিমাণও।

বছরে ৪৭৯ কোটি তুলবে কেন্দ্র, জল জীবনে ‘কর’ চাপছে বঙ্গবাসীর কাঁধে
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বাড়িতে যাচ্ছে পাইপলাইন। মিলবে জলও। তবে তার জন্য গুনতে হবে গাঁটের কড়ি। বেঁধে দেওয়া হচ্ছে জল খরচের পরিমাণও। জনপ্রতি প্রতিদিন ৫৫ লিটার। মোদি সরকারের ‘জল জীবন মিশন-২’ প্রকল্পে সেইরকমই পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনা মতো পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যানে বছরে নাগরিকদের থেকে সরকার তুলবে প্রায় ৪৭৯ কোটি টাকা (সঠিক অঙ্কটি ৪৭৮ কোটি ৯৪ লক্ষ ৭১ হাজার ২০০ টাকা)। কেন এই খরচ? বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার খরচ তো বহন করবে কেন্দ্র-রাজ্য। আধাআধি। কিন্তু সেই নলের জল ব্যবহার করলে দিতে হবে ‘মেন্টেনেন্স’ খরচ। পরিবার পিছু মাসে ৪০ থেকে ৮০ টাকা। এমনই প্রস্তাব কেন্দ্রের। 

Advertisement

সেই মতো কেন্দ্রের সঙ্গে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (মউ) চুক্তি করেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মধ্যবিত্ত থেকে প্রান্তিক শ্রেণি—অর্থ নেওয়ার পোশাকি নাম ‘অপারেশন অ্যান্ড মেন্টেনেন্স’। প্রয়োজনে সেটি বাড়তেও পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশেষ কমিটি। যদিও এভাবে গ্রামীণ এলাকার গরিবদের থেকে ‘জল কর’ নেওয়ার প্রবল বিরোধী তৃণমূল। সম্প্রতি সংসদে কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিলের ডাকা রাজ্যওয়াড়ি জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে আপত্তি করেছেন তৃণমূলের উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ। বৈঠকে রাজ্যের আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও কোনো কথা বলেননি। 
গ্রামে নলবাহিত বিশুদ্ধ জল সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট মোদি সরকার ঘোষণা করেছিল ‘জল জীবন মিশন।’ টার্গেট ছিল ২০২৪ সালের মধ্যেই গ্রামের সব বাড়িতে পৌঁছে যাবে জল। স্লোগানও দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি—‘হর ঘর জল’। কিন্তু টার্গেট পূরণ করতে পারেননি। তাই ‘জল জীবন মিশন-২’ নামে নতুন লক্ষ্যমাত্রা, ২০২৮ সাল। সরকার ঠিক করেছে, রাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতায় বাড়ি বাড়ি যাবে জল। কিন্তু সাধারণের জন্য নতুন মাথাব্যথা, জল ব্যবহার করলে দিতে হবে টাকা। সরাসরি ‘জল কর’ না বলেও আদতে দাঁড়াচ্ছে সেই পর্যায়েই। মন্ত্রক বলছে, পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষেণের জন্য ওই সামান্য টাকা নেওয়া হবে। পঞ্চায়েত বা ভিলেজ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কমিটি (ভিডব্লুএসসি) নামে তৈরি হবে বিশেষ কমিটি। এলাকাবাসীদের নিয়েই। তারাই ঠিক করবে কী হবে ‘জল কর’। উত্তরপ্রদেশে যেমন নেওয়া হচ্ছে পরিবার পিছু ৫০ টাকা। হরিয়ানায় ৪০। কর্ণাটকে ৫০। একইভাবে এবার পশ্চিমবঙ্গেও বাসিন্দাদের থেকে পরিবার পিছু মাসে ৪০-৮০ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। 
গত ৫ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাতিল। সেখানে বিষয়টি উঠেছে। তথ্য দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পুর এলাকার বাইরে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৯৮ বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে ট্যাপ ওয়াটার সরবরাহ হয়েছে ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৫টি বাড়িতে। ২০১৯ থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত সরকার (কেন্দ্র-রাজ্য মিলিয়ে) খরচ করেছে ২৮ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। যদিও সরকারি তথ্যেই স্পষ্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার ৩৯১ কোটি টাকা দিলেও মোদি সরকার এক পয়সাও দেয়নি। কেন? বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন সাজদা আহমেদ। বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেও কেন্দ্রের ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা দেওয়ার দায়িত্ব থাকলেও কেন দেওয়া হয়েছিল ২ হাজার ৫২৫ কোটি?’ যদিও এই প্রশ্নে মন্ত্রী ছিলেন নিরুত্তর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ