Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘রণংদেহি’ মমতায় আগ্রাসী ভবানীপুর, ‘এসআইআর নিয়ে আপনার লড়াই আমাদের মন্ত্র’

কেউ বললেন, ‘দিদি, আপনার লড়াই গোটা দেশ দেখছে। আপনি লড়াই-আন্দোলনের মুখ।’ কেউ আবার তাঁর লড়াইয়ের সঙ্গে ‘ঝাঁসি কি রানি’র লড়াইয়ের তুলনা টানলেন। আওয়াজ উঠল, ‘দিদি, এবার আপনাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।’

‘রণংদেহি’ মমতায় আগ্রাসী ভবানীপুর, ‘এসআইআর নিয়ে আপনার লড়াই আমাদের মন্ত্র’
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ বললেন, ‘দিদি, আপনার লড়াই গোটা দেশ দেখছে। আপনি লড়াই-আন্দোলনের মুখ।’ কেউ আবার তাঁর লড়াইয়ের সঙ্গে ‘ঝাঁসি কি রানি’র লড়াইয়ের তুলনা টানলেন। আওয়াজ উঠল, ‘দিদি, এবার আপনাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।’ সব মিলিয়ে যে বৈঠক ছিল নিতান্তই ঘরোয়া, তার চেহারা হয়ে উঠল অন্যরকম! স্পষ্ট হয়ে উঠল, রণংদেহি মমতার জানকবুল লড়াইয়ের মানসিকতা ছড়িয়ে পড়েছে ভবানীপুরজুড়ে। ‘ঘরের মেয়ে’ মমতার জয় নিশ্চিত করতে এখন আগ্রাসী লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে ভবানীপুর। 

Advertisement

রবিবারের সন্ধ্যা। কলকাতা পুরসভার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তম উদ্যানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মত বিনিময়, আলাপচারিতায় ব্যস্ত রইলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা ভবানীপুরের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একেবারে ঘরোয়া বৈঠক। এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই তাঁর আত্মিক যোগাযোগ। সেই যোগাযোগ আর অন্তরের টান ভোটের আগে একবার ঝালিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল এই কর্মসূচি। 
১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৩ মার্চ চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে ভবানীপুরের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রথম ঘরোয়া বৈঠক করেন মমতা। সেটাই ছিল ভবানীপুরে মমতার প্রথম নির্বাচনি কর্মসূচি। এরপর রবিবার ভবানীপুরের ভোটারদের সঙ্গে মিলিত হন তিনি। সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধির কথা শুনলেন। তাঁদের পরামর্শ নিলেন। শেষে বক্তব্যও রাখলেন তিনি। রণংদেহি মেজাজে তুমুল আক্রমণ শানালেন বিজেপির বিরুদ্ধে। কেন্দ্রের শাসক দল কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে, তথ্য সহ তা তুলে ধরেন মমতা। দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘সমস্ত এজেন্সি কাজে লাগিয়ে, জোরজবরদস্তি করেও বিজেপি বাংলা দখল করতে পারবে না।’ 
ভবানীপুরকে বলা হয় ‘মিনি ভারতবর্ষ’। কারণ, এখানে নানা ভাষা, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থান চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। অন্য রাজ্য থেকে এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে উঠেছেন অনেকে। এখানে তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। এহেন ভবানীপুরের আম নাগরিকের প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমোর আবেদন, ‘আপনারা সুখে-শান্তিতে এখানে বসবাস করুন, ব্যবসা-বাণিজ্য করুন। সারা বছর আপনাদের পাশে আমরা আছি। বিজেপি ধর্মে ধর্মে ভাগাভাগি করছে। আমরা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলি।’ এরপরই বৈঠকে উপস্থিত এক ভবানীপুরবাসী বলে ওঠেন, ‘দিদি, আপনার লড়াইকে কুর্নিশ।’ আরেকজন বললেন, ‘এসআইআর নিয়ে আপনার লড়াই যেভাবে দিল্লিতে পৌঁছে দিয়েছেন, তা গোটা দেশ দেখেছে। সেই লড়াই মনে করিয়ে দিচ্ছে ঝাঁসির রানির লড়াইকে।’ একজনকে বলতে শোনা গেল, ‘এসআইআর নিয়ে আপনার লড়াই আমাদের মন্ত্র।’ রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভোটের প্রচার পর্বে ভবানীপুরের মানুষের সঙ্গে প্রথম বৈঠকই বুঝিয়ে দিল, মমতার পাশেই জনতা। 

সম্পর্কিত সংবাদ