


সংবাদদাতা, রানাঘাট: মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর বুধবার থেকেই জোরকদমে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রচারের উত্তাপে পিছিয়ে নেই রানাঘাট সাংগঠনিক জেলাও। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। তবে এই আবহের মধ্যেই জেলা তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় নাম নেই রানাঘাট দক্ষিণের বিদায়ী বিধায়ক তথা জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি ডাঃ মুকুটমণি অধিকারীর। তাঁর নাম বাদ পড়তেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। উল্লেখযোগ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন মুকুটমণিবাবু। তারপর রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরে উপনির্বাচনে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বও পান। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর বদলে সৌগতকুমার বর্মনকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
শুরু থেকেই মুকুটমণিবাবুকে ঘিরে দলের অন্দরে নানা মতভেদ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠছিল। বিজেপি ছেড়ে আসার পরই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় তৃণমূলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও একাধিকবার অভিযোগ জমা পড়ে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি নিজের বিধানসভা এলাকায় পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তাঁর সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়। যদিও বিজেপি এখনও রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার একাধিক আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ফলে, রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মুকুটমণিবাবু আবারও দল বদল করবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। একই সঙ্গে, যদি তিনি দল ছাড়লে জেলা যুব তৃণমূলের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদিও সমস্ত জল্পনায় আপাতত জল ঢেলেো দিয়েছেন স্বয়ং মুকুটমণিবাবু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমাকে দল প্রার্থী করেনি ঠিকই, কিন্তু গত দু’বছর ধরে আমি নিঃস্বার্থভাবে দলের কাজ করে গিয়েছি। দল আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে, আমি সেভাবেই কাজ করব। অন্য দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখন আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ সব দলেরই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আমি তৃণমূল কংগ্রেসেই থাকতে চাই।
এ বিষয়ে, জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ও কেছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, মুকুটমণি অধিকারী এখনো আমাদের দলের যুব সভাপতি। এর বেশি কিছু বলার নেই। যদিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বিজেপির নদীয়া দক্ষিণের সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী। সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর রানাঘাটের রাজনৈতিক অন্দরে উত্তাপ যেমন বেড়েছে, তেমনই মুকুটমণিবাবুকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও জল্পনাও এখন তুঙ্গে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।