


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর ও সংবাদদাতা, রানাঘাট: অসম্পূর্ণ রেখেই নদীয়া জেলার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। নদীয়া জেলার ১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে সাতটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। তার মধ্যে রয়েছে করিমপুর, পলাশীপাড়া, কালীগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, চাকদহ এবং হরিণঘাটা। নদীয়া দক্ষিণের আসনগুলিতে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়কদের পুনরায় টিকিট দেওয়া হয়েছে। তবে প্রার্থী ঘোষণা হতেই রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভা নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। কারণ, সোমবার বেলার দিকে বিধায়ক অসীম বিশ্বাসকে নিয়ে দলের নীচুতলার কর্মীরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। বিকালে তাঁকেই পুনরায় রানাঘাট উত্তর-পূর্ব আসন থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বিজেপির অন্দরের কোন্দল সামনে আসায় নির্বাচনের মুখে অস্বস্তি বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু কামালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। সোমবার বেলার দিকে সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করে রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অসীম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলেরই পঞ্চায়েত প্রধান। কামালপুর পঞ্চায়েতের প্রধান বুলু অধিকারী, উপপ্রধান সুমি সরকার বিশ্বাস, পঞ্চায়েত সদস্য বিপ্লব রায় এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধি বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, গত পাঁচ বছরে এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে ‘পার্টি ফান্ড’-এর নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে তিনি যখন পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন, সেই সময়কার সার্টিফিকেট ব্যবহার করে সিএএ-র আবেদন করিয়ে দেওয়ার নামেও বহু মানুষের কাছ থেকে উনি অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন। বিগত পাঁচ বছরে রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের তেমন কোনো ছাপ পড়েনি।’
এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা এবং রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভানেত্রী অপর্ণা নন্দীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগপত্রে পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের একত্রিত স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে। এনিয়ে বিধায়ক অসীমবাবুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, কোনো মন্তব্য করব না।
বিজেপির জেলা সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, এমন কোনো লিখত অভিযোগ আমার কাছে জমা পড়েনি। দল ওই কেন্দ্রে অসীম বিশ্বাসকেই প্রার্থী করেছে। ফলে এক সঙ্গে কাজ করে আবারও আমরা ওই এলাকায় জয়লাভ করব। দলের ভিতরে কারও ক্ষোভ থাকলে সেটা আমরা বসে মিটিয়ে নেব।
তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এটা তো সবে শুরু। এতদিন আমরা বলতাম, এখন দলের কর্মীরাই তাঁদের বিধায়কের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন।
করিমপুর বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী করেছে সমরেন্দ্রনাথ ঘোষকে। ২০১১ সালে তিনি করিমপুর বিধানসভা থেকে সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন। ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। তাঁকেই পুনরায় প্রার্থী করেছে বিজেপি। পলাশীপাড়া বিধানসভায় অনিমা দত্ত, কালীগঞ্জ বিধানসভায় বাপন ঘোষকে প্রার্থী করা হয়েছে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভায় পুনরায় পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়, চাকদহ বিধানসভায় বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ এবং হরিণঘাটা বিধানসভায় অসীমকুমার সরকারকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী পার্থসারথিবাবু বলেন, দল আমার উপর ভরসা রেখেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে।