অর্ক দে, কলকাতা: পালাবদলের ভবানীপুরে এবার রামায়ণ! ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত আলিপুর সর্বজনীনের পুজোর এবারের থিম এই মহাকাব্য। যদিও পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই থিম পুরোটাই কাকতালীয়। পালাবদলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। অনেক আগেই থিম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কাঠ খোদাইয়ের মাধ্যমে মণ্ডপসজ্জায় রামায়ণের নানা দৃশ্যপট ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী অনির্বাণ প্যান্ডেলওয়ালা (দাস)। থাকছে পুষ্পক রথ এবং জটায়ু-রাবণের যুদ্ধের চমক।
গত কয়েকবছর ধরে এই পুজো দক্ষিণ কলকাতায় চমক জাগিয়েছে। আলিপুর সর্বজনীনের এবারের দুর্গাপুজোর থিম রামায়ণ মহাকাব্য। বাঁশ, লোহা এবং প্লাইউডের স্ট্রাকচারে প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। ওই চত্বরে রয়েছে একটি রামমন্দির। সেই মন্দিরকে রেখেই তৈরি হয়েছে গোটা মণ্ডপ। দশরথের প্রাসাদ কাঠের স্ট্রাকচারের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কারুশিল্পের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে রামায়ণের নানা দৃশ্যপট। কাঠ খোদাই করে তার উপর অংকন করে রাম-সীতা, রাবণ, জটায়ু সহ রামায়ণ গাথা সেজে উঠেছে চতুর্দিকে। সাবেকি ঘরানার হলেও প্রতিমার গড়নে রয়েছে চমক। কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙানোর দৃশ্যপট কাঠখোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ছোটো ছোটো কাঠের পুতুল-হনুমান। যেগুলি দর্শনার্থীরা মণ্ডপে এসে পুতুলনাচের মতো দেখতে পাবেন। তবে সব থেকে চমক পুষ্পক রথ। যা শূন্যে ভাসছে। তলায় প্রমাণ সাইজের মঞ্চে জটায়ু-রাবণের যুদ্ধের লাইভ পারফরম্যান্স। গত তিনবছর ধরে এই পুজোর থিমের দায়িত্বে অনির্বাণ। পরপর চমক দিয়ে এবার তার বাজি রামায়ণ। অনির্বাণের কথায়, সম্পূর্ণ রামায়ণ এখানে দেখানো হচ্ছে। বাল্মীকি-কৃত্তিবাসের রামায়ণ। এছাড়াও গোটা পৃথিবীজুড়ে রামায়ণের যে অসংখ্য ভার্সন রয়েছে, সেখান থেকেও কিছু কিছু টুকরো দৃশ্যপট এখানে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। তবে এই রামায়ণে আমাদের হিরো জটায়ু। রাবণ এবং জটায়ুর যুদ্ধের দৃশ্যপটকে মণ্ডপে ফোকাস করা হয়েছে। সীতাকে উদ্ধার করার জন্য রাবণের পুষ্পক রথ ধাওয়া করেছিলেন বৃদ্ধ পাখি। তাঁকে ট্রিবিউট দিয়ে এখানে রামায়ণের পুরো গল্পের মুখ্য চরিত্র হিসাবে জটায়ুকে দেখানো হয়েছে। চমকের বিষয়ে শিল্পী বলেন, রামের হাত ধরে দুর্গার অকালবোধন হয়েছিল। সেটাই আমাদের দুর্গাপুজো। তবে এখানে কুম্ভকর্ণের অকালবোধন দেখতে পাওয়া যাবে। রাবণ এবং জটায়ুর যুদ্ধের পারফরম্যান্স হবে। দীপান্বিতা আচার্য মিউজিক করেছেন। পুরো রামায়ণ সংক্ষিপ্ত গানের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। সেখানে বানরসেনা এবং রাক্ষসীরা তাল ঠুকতে ঠুকতে নাচবেন।
এই পুজো পূর্বতন ৭৪ নম্বর, বর্তমানে ১১২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভার মধ্যে পড়ে। এই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার ববি হাকিম ঘনিষ্ঠ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম পছন্দের দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি এই পুজোর মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। যদিও এবছর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর উপস্থিতি নেই। পালাবদলের পরই কি পুজোর থিম রামায়ণ করার সিদ্ধান্ত? শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা বলেই কি রামায়ণ মহাকাব্য? মানতে অবশ্য নারাজ পুজোকর্তারা। পুজোকর্তা কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, এটা অনেকটা কাকতালীয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে এই থিম ঠিক হয়ে গিয়েছিল। যেভাবে কাঠখোদাই এবং হাতে আঁকার কাজ হয়েছে, তা অনবদ্য। তার সঙ্গে আলোর খেলা মণ্ডপজুড়ে। সবমিলিয়ে রামায়ণের এক অন্য জগত ধরা দেবে আলিপুর সর্বজনীনে। এই পুজো এক বহুজাতিক গ্রুপ আয়োজিত প্রি-পুজো পরিক্রমার তালিকায় ঢুকে পড়েছে। ১১ বা ১২ অক্টোবর পুজো উদ্বোধন করার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।