


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: আমেরিকার শিকাগো ধর্ম মহাসম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে কিছুছিন উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। শেঠ লালা নন্দরাম গুপ্তার বাগানবাড়ি ২৫৯, রামবাগের ঠিকানায়। যেখানে একজোট হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের থেকে সরাসরি দীক্ষামন্ত্র পাওয়া সাত শিষ্য। স্বামী বিবেকানন্দ, ব্রহ্মানন্দ, সারদানন্দ, তুরিয়ানন্দ, অখণ্ডানন্দ, কৃপানন্দ এবং অদ্বৈতানন্দ। ৩০ বিঘা জমির ওপর ওই বাগানবাড়িই হয়ে উঠেছিল ‘দ্বিতীয় বরানগর মঠ।’ ১৮৯০ সালের ডিসেম্বর মাসের চতুর্থ সপ্তাহ থেকে ১৮৯১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ—এই সময়কালে মিরাটের ওই বাগানবাড়ি পরিণত হয়েছিল স্বামীজি সহ শ্রীরামকৃষ্ণ শিষ্যদের আখড়া। হয়েছিল বিশেষ হোম যজ্ঞ। পূজা, অর্চনা।
সেই বাড়িটিই এবার নিজেদের হাতে পেতে চায় রামকৃষ্ণ মিশন। শেঠজির বাগান নামে পরিচিত বাড়িটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন। মিরাট ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মধ্যে রয়েছে বাগানবাড়িটি। কিন্তু যে বাড়িতে স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দর পায়ের ধুলো পড়েছে। বেশ কিছুদিন বসবাসও করেছেন, সেটি সকলের অলক্ষ্যে কেন পড়ে থাকবে সরকারি কোনও মন্ত্রকের অধীনে? এহেন ভাবনা থেকেই শেঠজির বাগানবাড়িটি অধিগ্রহণ করতে চায় রামকৃষ্ণ মিশন। দীর্ঘদিন ধরে চলছে চেষ্টা। প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থাকার সময় শুরু হয়েছিল উদ্যোগ। কাজ এগিয়েওছিল কিছুটা। কিন্তু পরে আর হয়নি। নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুহিতানন্দ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কিছুই হয়নি। তাই ফের নতুন উদ্যোগে স্বামীজির স্মৃতিধন্য ওই বাড়িটি মিশনকে যাতে হস্তান্তর করা হয়, তার চেষ্টা চলছে। গত ১০ মার্চ সংসদ ভবনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন দিল্লি রামকৃষ্ণ মিশনের সচিব স্বামী সর্বলোকানন্দ। সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনিই নিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী সর্বলোকানন্দকে। রাজনাথ সিংকেও দেওয়া হয়েছে চিঠি। সেখানে অনুরোধ করে বলা হয়েছে, স্বামীজির স্মৃতিধন্য ওই বাড়িটি রামকৃষ্ণ মিশন পেলে সম্পূর্ণ জনস্বার্থে কাজে লাগানো হবে। স্বামীজির নামে একটি সংগ্রহালয়ের পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে শিশুদের ফ্রি কোচিং, চিকিৎসালয় এবং মহিলাদের স্কিল ডেভলপমেন্ট সেন্টার। জাতীয় মর্যাদার ওই বাড়িটি কোনওভাবেই পড়ে থেকে স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যাক, চায় না রামকৃষ্ণ মিশন। আবেদন খতিয়ে দেখে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে কী করা যায়, তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন রাজনাথ সিং।