শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কাঁটাতার দিয়ে সীমান্ত ঘেরা হচ্ছে বসিরহাটে। সে পরিকল্পনায় রাম-সীতার প্রাচীন একটি ভারতীয় মন্দির চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কাঁটাতার দিয়ে সীমান্ত ঘেরা হচ্ছে বসিরহাটে। সে পরিকল্পনায় রাম-সীতার প্রাচীন একটি ভারতীয় মন্দির চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
ভারতের রাম-সীতার মন্দির চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে! খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর বসিরহাটে কার্যত হাহাকার পড়ে গিয়েছে। বহুকাল ধরে এই এলাকার অসংখ্য মানুষের আরাধ্য দেবতা হলেন রাম-সীতা। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রাণের দেবতাকে ঠাঁইনাড়া করা হচ্ছে, বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না এখানকার বাসিন্দারা। ক্রমে দানা বাধছে ক্ষোভ। এর বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়াও শুরু করেছেন স্থানীয়রা। অনেকের বক্তব্য, ‘অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী চুরির মতোই আশঙ্কাজনক ঘটনা। এরা রামের নামে ভোট চায় তারপর রামকেই দেশ ছাড়া করতে চায়।’
স্বরূপনগর সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ চলছে। সে কাজের জন্য বিএসএফকে গ্রামের মানুষ জমিও দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারালি, হাকিমপুর সহ পাঁচটি গ্রামের বিস্তীর্ণ অংশ কাঁটাতারের ওপারে চলে যাবে। এই তারালির দক্ষিণপাড়াতেই রয়েছে রাম-সীতার বিখ্যাত প্রাচীন মন্দিরটি। সে দেবস্থান ধর্মীয় উপাসনার জায়গা শুধু নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুও বটে। প্রতিবছর বৈশাখে পূর্ণিমার পর জনপ্রিয় একটি মেলা বসে। বহু দূর থেকে মানুষ আসে। রাম-সীতা এই অঞ্চলের অন্যতম আরাধ্য, মানুষের প্রাণের দেবতা। ‘রাম-সীতাকে ডিপোর্ট করা হচ্ছে, এর থেকে বড়ো নৈরাজ্যের ঘটনা আর কিছু হতে পারে না’-একাধিক গ্রামবাসীর এটাই বক্তব্য। জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসরিয়া বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানিয়েছেন। এবং বলেছেন, ‘এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।’ তারালি দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা সত্যজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘এখন জয় শ্রী রামের সরকার। সেই সরকারই রামের মন্দির কাঁটাতারের ওপারে পাঠিয়ে দিচ্ছে! সুরক্ষার দোহাই দিয়ে অনাচার চলছে।’ বহু গ্রামবাসীর বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতারের বিরোধী তাঁরা নন। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার উপর আঘাত হানা আসলে স্বৈরতন্ত্রের কদর্য চেহারা।
দেবতা ‘ডিপোর্ট’য়ের পাশাপাশি বহু কৃষিজমি বাংলাদেশে চলে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় আছে মানুষ। কাঁটাতার বসে গেলে নিজের জমিতে চাষ করতে যেতেও বিএসএফের অনুমতি লাগবে। ফলে চাষ করা মুশকিলের হয়ে পড়বে। জীবনযাপনে এর প্রভাব পড়বে। পাঁচ গ্রামের কিছু প্রাথমিক স্কুল, এসএসকে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পোস্ট অফিস, সুলভ শৌচালয় ইত্যাদি বহু জিনিস কাঁটাতারের ওপারে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সবার মনে। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘মন্দির ওপারে যাবে না।’ নিজস্ব চিত্র