


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শুক্রবার বাঁকুড়া শহরে বুলডোজার নিয়ে রামনবমীর শোভাযাত্রা হয়। শোভাযাত্রার মাঝে বুলডোজার দেখে বাঁকুড়াবাসী কিছুটা অবাক হয়। এর আগে শোভাযাত্রায় ধর্মীয় ধ্বজ, রাম-লক্ষণের সাজে কচিকাঁচাদের দেখা যেত। তবে এবার বুলডোজারে সওয়ার হয়ে শোভাযাত্রায় বের হন বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি সুদীপ চক্রবর্তী। তিনি বাঁকুড়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা তালডাংরা উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী অনন্যা রায় চক্রবর্তীর স্বামী। সুদীপবাবু বিজেপির সমর্থনেই ক্রীড়া প্রশাসক হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে বুলডোজারে অন্যান্য বিজেপি কর্মীদেরও চাপতে দেখা গিয়েছে। বুলডোজারে লেখা ছিল, ‘অযোধ্যা তো ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা আভি বাকি হ্যায়।’ সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় এলে সমাজবিরোধীদের উপর বুলডোজার চালাব। বেআইনি কাজ করে কেউ পার পাবে না। রাজ্যজুড়েই বুলডোজার চলবে।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, কেউ বেআইনি কাজ করলে আদালত শাস্তি দেয়। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। বাংলা উত্তরপ্রদেশ নয়। ফলে এখানে বুলডোজার চলবে না। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন চলবে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল সহ অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তরফে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় রামনবমীর শোভাযাত্রা বের হয়। বাঁকুড়া শহরে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। শহরের পাঁচবাগা থেকে হিন্দুস্কুল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা ওই শোভাযাত্রা পরিক্রমা করে। শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা শেষ হয়। গণ্ডগোল এড়াতে জেলার বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ এনে বাঁকুড়া শহরে মোতায়েন করা হয়। জেলা পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি থানার ওসি, আইসিরাও বাঁকুড়ায় হাজির ছিলেন। এদিনের শোভাযাত্রায় বাঁকুড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানা অংশ নেন। নীলাদ্রিবাবুর মুখে জয় শ্রীরামের পাশাপাশি ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই ভাই’ স্লোগান শোনা যায়। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় শোভাযাত্রায় বুলডোজার নিয়ে বিজেপি কর্মীদের আস্ফালন। উল্লেখ্য, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বুলডোজার নিয়ে প্রশাসনকে ময়দানে নামতে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন সময়ে। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাড়ি ও সম্পত্তি বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষমতায় এলে আগামী দিনে এ রাজ্যেও ওই ধরনের কাণ্ড ঘটানো হবে বলে বিজেপি আগাম বার্তা দিয়ে রাখল বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
• নিজস্ব চিত্র