সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : রাখি পূর্ণিমা যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎসবের আমেজে জমজমাট সুপ্রাচীন কৃষ্ণনগরের বাজার। ভাই-বোনের ভালবাসা ও সম্প্রীতির প্রতীক এই উৎসব ঘিরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এখন দেখা যাচ্ছে রঙিন রাখির পসরা। ছোটো থেকে বড়ো সবার পছন্দের কথা মাথায় রেখেই দোকানগুলিতে দেখা মিলবে নানা ধরনের রাখি। সেসব রাখিতে ঠাঁই পেয়েছেন মহাদেব, কোথাও জগন্নাথদেব তো আবার কোথাও রাম, সীতা পদ্মফুল, সবার পছন্দের ছোটা ভীম।
কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন রাস্তার দু’ধারে ইতিমধ্যেই বসেছে অসংখ্য রাখির স্টল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ছে রঙবেরঙের রাখি। শুধু পোস্ট অফিস মোড় নয়, কৃষ্ণনগর শহরের প্রায় সব বাজারেই ছোটো-বড়ো দোকান সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। কেউ টেবিলের উপর, আবার কেউ সুন্দর করে ঝুলিয়ে রেখেছেন নানা ধরনের রাখি। এবার বিশেষ আকর্ষণ শিশুদের জন্য তৈরি রাখি। পুতুল রাখি, স্পিনার রাখি, ভীম রাখি এবং বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রের ছবি দেওয়া রাখির প্রতি ছোটোদের ঝোঁক বেশি। দোকানে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসে নিজেদের পছন্দের রাখি বেছে নিচ্ছে খুদেরা। প্রিয় কার্টুন চরিত্রের রাখি হাতে পেয়ে খলখলিয়ে হাসছে কচিকাঁচারা।
তবে শুধু শিশুদের জন্যই নয়, বড়দের জন্যও বাজারে রয়েছে নানা ধরনের রাখি। মহাদেব, জগন্নাথ, রাম,সীতা ও পদ্মফুলের নকশা করা রাখির চাহিদাও রয়েছে যথেষ্ট। অনেক ক্রেতাই নিজের পছন্দ ও বিশ্বাস অনুযায়ী এই ধরনের রাখি কিনছেন। পাশাপাশি রঙিন পুঁতি, পাথর ও বিভিন্ন সাজসজ্জা দিয়ে তৈরি রাখিও রয়েছে দোকানগুলিতে। বিক্রেতাদের কথায়, ১০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে রাখির দাম। সাধারণ রাখি থেকে শুরু করে নকশা ও সাজসজ্জার ওপর ভিত্তি করে তুলনামূলক বেশি দামের রাখিও পাওয়া যাচ্ছে। নিজের বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা। সপ্তাহের প্রথম দিন রাখি কিনতে আসা মাম্পি দে নামে এক গৃহবধূ বলেন, ছেলেকে নিয়ে রাখি কিনতে এসেছি। ওর পছন্দ কার্টুন ছোটা ভীমের রাখি। দামও খুব বেশি নয়, তাই পছন্দমতো কিনতে পারছি। -নিজস্ব চিত্র