Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পালাবদলেই রাজপাট লাটে মাটি মাফিয়াদের, ফুলেফেঁপে ওঠা তৃণমূল নেতাদের নিয়ে জল্পনা

রাত হলেই ট্রাক্টরের আওয়াজে ঘুমে উড়ে যেত গ্রামবাসীদের। গ্রামের ভিতরের রাস্তা ধরে লাইন দিয়ে যেত মাটি ভর্তি ট্রাক্টর।

পালাবদলেই রাজপাট লাটে মাটি মাফিয়াদের, ফুলেফেঁপে ওঠা তৃণমূল নেতাদের নিয়ে জল্পনা
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাত হলেই ট্রাক্টরের আওয়াজে ঘুমে উড়ে যেত গ্রামবাসীদের। গ্রামের ভিতরের রাস্তা ধরে লাইন দিয়ে যেত মাটি ভর্তি ট্রাক্টর। রাতের অন্ধকারে কখনও কৃষিজমি, আবার কখনও নদীর চরের জমিতে থাবা বসিয়ে ওইসব মাটি ভর্তি করা হতো। দিনের আলো ফুটলেই দেখা যেত মাটি সাফ। পুলিশ সব জানলেও তৃণমূল নেতার ছত্রছায়ায় থাকা সেই মাটি মাফিয়ারা এতদিন থেকেছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনটাই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। আবার তৃণমূল নেতাদের কেউ কেউ জড়িয়ে ছিলেন বেআইনি মাটি কারবারে। তাতেই তাঁদের আঙুল ফুলে কলাগাছ! পালাবদলের পর মাটি কারবারিদের এখন পায়ের তলার মাটি সরতে চলেছে। রাজপাট পড়েছে চরম সংকটে। অনেকেই এখন বলছেন, ভাগীরথী, জলঙ্গী, চূর্ণীর চর এবার খানিক সুরক্ষিত হবে।

Advertisement

রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে এই অবৈধভাবে মাটির ব্যবসাকেই রোজকারের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছিলেন অনেকে। এবার সেটা আর হবে না। নতুন সরকার  এই মাটির ব্যবসাকে পুরোপুরি বন্ধ করবে। ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় তা বন্ধ হয়েছে।’
কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা বা ধুবুলিয়া থানার অন্তর্গত তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম বেআইনি মাটি কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে বলে অভিযোগ। রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় তাঁদের প্রভাব প্রতিপত্তি শিখরে পৌঁছেছিল। অতীতে এক তৃণমূল নেতার আত্মীয়ের বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর সহ মাটি কাটার যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করেছিল ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। ধুবুলিয়ার এক বাসিন্দার কথায়, ‘আমাদের বেলপুকুর এলাকা দিয়ে কিছুদিন আগে পর্যন্ত রাত হলেই লাইন দিয়ে ট্রাক্টরের গাড়ি যেত‌। গ্রামের ভিতরে রাস্তাতে মাটি পড়ে থাকত। বেআইনিভাবে মাটি কাটার কথা জানলেও গ্রামবাসী কেউই মুখ খোলার সাহস পেতেন না।’
কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের ভালুকা, জোয়ানিয়া ও নবদ্বীপ সংলগ্ন মহিশূরা এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূলের এক জনপ্রতিনিধির দাপটের কথা জেলাবাসীর কাছে অজানা নয়। অবৈধভাবে মাটির ব্যবসা করেই কুমড়ো বিক্রেতা থেকে বাহুবলী তৃণমূল নেতা হয়েছেন তিনি। কোথা থেকে মাটি কাটা হবে এবং সেই মাটি কোথায় যাবে, সবটাই চলত তাঁর অঙ্গুলিহেলনে। আবার ভাগীরথী থেকে বেপরোয়াভাবে বালি তোলা নিয়ে নবদ্বীপের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নাম শোনা যায়। পালাবদলের হাওয়ায় তাঁদেরই রাজপাট হারানোয় আশঙ্কা। 
একই ছবি চাপড়ার জলঙ্গি নদীর পাড়েও। সেখানে নদীর ধার বরাবর একাধিক ইঁটভাটা তৈরি হয়েছে তৃণমূল জমানায়। নদীর জল শুকিয়ে গেলেই প্রকাশ্যে চরের মাটি, বালি মেশিন বসিয়ে তোলা হতো। কালীগঞ্জ ব্লকে ভাগীরথীর চর থেকে সাদা বালি অবৈধ তোলা, মাটির কাটার মতো কারবারে দেবগ্রামের এক দাপুটে তৃণমূল নেতার নামে বারবার উঠে এসেছে। এমনকী, নির্বাচন কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’দের তালিকাতেও তাঁর নাম সামনে এসেছিল। কিন্তু জেলার এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠের ছত্রছায়ায় থাকা ওই নেতার কেশাগ্র স্পর্শ করার সাহস ছিল না পুলিশের। ফুলেফেঁপে ওঠে সেই তৃণমূলের নেতার ভবিষ্যৎ ঘিরে এখন জল্পনা। শুধু তাই নয়, করিমপুরের এলাকাতেও একাধিক তৃণমূল নেতার নাম সরাসরি অবৈধভাবে মাটি কাটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকার কথাও শোনা যায়। শান্তিপুর, রানাঘাটের তৃণমূলের প্রভাবশালীদের নাম জড়িয়েছে এই ব্যবসার সঙ্গে। 
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি অয়ন বলেন, ‘বিজেপি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখুক, তৃণমূল জামায়াতেই এই ধরণের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের সরকার কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ