


মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: গাজোল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাসের সমর্থনে শনিবার জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স সংলগ্ন মাঠে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় উপচে পড়ল মতুয়া, রাজবংশী, আদিবাসীদের ভিড়।
প্রবল গরমের মধ্যেও ধৈর্য্য ধরে বসে প্রায় ৩০ মিনিট মমতার বক্তব্য শোনেন তাঁরা। এসআইআর নিয়ে গোটা রাজ্যে মতুয়া, আদিবাসী, রাজবংশীদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, এখানে মতুয়া ভাইবোনেরা বসে রয়েছেন? যান বনগাঁ, গাইঘাটা গিয়ে দেখে আসুন। মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নাম বাদ। অন্যদিকে, রাজবংশীরা দিনহাটা, কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গে যান, সেখানেও একই অবস্থা। এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে ২৫০ মানুষ মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে হিন্দু, মুসলিম, তপশিলি, আদিবাসী মা, ভাইবোন, বিএলও রয়েছেন। কে এদের বিচার দেবে?
এর পরই বাংলার অগ্নিকন্যার হুঙ্কার, যাঁরা মারা গিয়েছে, তাঁদের আত্মার শান্তি দিতে ভোটের বাক্সে বদলা নিন। দলে দলে তৃণমূল এবং জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিন। গাজোলে ২৭২টি বুথে প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোটার। এর মধ্যে ৪২ শতাংশের বেশি তপশিলি। ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে তপশিলিদের মধ্যে মতুয়া, রাজবংশী সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বাস। গত বিধানসভায় গাজোলের সর্বস্তরের মানুষ তৃণমূলকে বিপুল ভোট দেয়। তবে, মাত্র ১ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিল বিজেপি।
মমতা বক্তৃতার শুরুতেই বলেন, আগে জিজ্ঞেস করব, এসআইআর নাম তুলতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন কারা? ভোটার লিস্টে নাম নেই কাদের? একটু হাত তুলুন। সেখানে অনেকেই হাত তোলেন। তখনই মানুষের ভোগান্তি নিয়ে সরব হন দলনেত্রী।
তৃণমূলের গাজোল ব্লক সভাপতি রাজকুমার সরকার বলেন, এদিন দিদি যা বলেছেন, আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে শুরু করে দিয়েছি। যাঁদের নাম বিচারাধীন রয়েছে, ট্রাইবুনালে মাধ্যমে আবেদন করা হবে। সবার পাশে থাকবেন তৃণমূলের কর্মীরা।