Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

২০ বছর পর একমঞ্চে রাজ-উদ্ধব

বিগত কয়েক বছরে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা মহারাষ্ট্র রাজনীতিকেও টানটান থ্রিলারে পরিণত করেছেন। কখনও এই দল ভেঙে  যাচ্ছে। কখনও নেতার পরিবারে ফাটল ধরছে।

২০ বছর পর একমঞ্চে রাজ-উদ্ধব
  • ৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিগত কয়েক বছরে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা মহারাষ্ট্র রাজনীতিকেও টানটান থ্রিলারে পরিণত করেছেন। কখনও এই দল ভেঙে  যাচ্ছে। কখনও নেতার পরিবারে ফাটল ধরছে। কখন কে সরকার গড়বে কেউ বুঝতে পারছে না। মুম্বইয়ের সঙ্গে বলিউড যেন আষ্টেপৃষ্ঠে মিশে গিয়েছে। হুবহু মুম্বইয়ের কমার্শিয়াল সিনেমার স্টাইলে ২০ বছর পর শনিবার দুই ভাইয়ের পুনর্মিলন দেখল মুম্বই। থ্যাকারে ব্রাদার্স অর্থাৎ শিবসেনা প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব থ্যাকারের পুত্র উদ্ধব থ্যাকারে এবং ভাইপো রাজ থ্যাকারে। ২০০৫ সালে শেষবার কোনও মঞ্চে একসঙ্গে পরস্পরের হাত ধরে জনতার উদ্দেশে সৌহার্দ্যের বার্তা দিয়েছিলেন তাঁরা। মারাঠা অস্মিতাকে আবার ফিরিয়ে আনার শপথ নিয়ে এদিন বিজয় সমাবেশে দুই ভাইকে আবার হাত ধরাধরি করে ফোটো সেশন করতে দেখা গেল। বহু বছর পর রাজ এবং উদ্ধবের সমর্থকরাও একজোট হয়ে একই সভায় বালাসাহেবের নামে জয়ধ্বনি দিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এই মঞ্চ থেকেই প্রশ্ন উঠে গেল যে, শীঘ্রই কি দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক মিলনও হতে চলেছে? শিবসেনার এমপি সঞ্জয় রাউত, প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীরা স্পষ্ট বলেছেন, এই জোট সাধারণ শিবসৈনিকদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত। মারাঠামানস একমাত্র দুই ভাই রক্ষা করতে পারেন। মহারাষ্ট্রবাসীও চাইছেন বিভেদ ভুলে যেন দুই ভাই এক হয়ে যান। সেই অধ্যায় শুরু হল। 

Advertisement

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নতুন নাটকের জন্ম হল। উদ্ধব থ্যাকারে কিছু বছর থাকলেন বিজেপির সঙ্গে। তারপর বিচ্ছিন্ন হলেন এনডিএ থেকে। পরে কংগ্রেস ও শারদ পাওয়ারের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করলেন। সেই সরকারও ভেঙে গেল বিজেপির দল ভাঙার রণকৌশলে। একনাথ সিন্ধের নেতৃত্বে ৪১ জন শিবসেনা বিধায়ক যোগ দেন এনডিএ-তে। এমনকী শিবসেনার নাম, প্রতীক সব দখল করে নেন সিন্ধে। ২০ বছর পর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পরস্পরের হাত ধরলেন উদ্ধব-রাজ। অনুষ্ঠানে রাজ বললেন, বালাসাহেব যেটা পারেননি, সেটা করে দেখালেন ফড়নবিশ। আমাদের দু’জনকে এক করে দিলেন তিনি। তারপরই তাঁর হুঙ্কার, বিধানভবনে আপনার ক্ষমতা রয়েছে। আর আমাদের শক্তি রাস্তায়। ত্রিভাষা নীতির মাধ্যমে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন দুই ভাই। মূলত তাঁদের চাপেই সরকার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে। তারপরই এদিন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পালন করা হয়। সভায় রাজকে যতটা আক্রমণাত্মক দেখা গিয়েছে, উদ্ধব ততটা ছিলেন না। তবে তিনিও বলেছেন, বিজেপির হিন্দু-হিন্দুস্তানে আপত্তি নেই। কিন্তু হিন্দি মানব না। তারপরই তিনি বলেন, তামিলনাড়ু অথবা বাংলায় একবার এটা প্রয়োগের চেষ্টা করে দেখুন না। আমরা কোনও ভাষার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ক্ষমতা দেখাবই। দুই ভাইয়ের মিলন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলেও। হিন্দি বিরোধিতায় উদ্ধব-রাজের একত্র হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ