Bartaman Logo
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জোরালো নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে রাজ্যে, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গে ভারী বর্ষণ, আশঙ্কা উত্তরেও

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে একটি অতি গভীর নিম্নচাপ। শনিবার একথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। অতি গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় হবে কি না, তা এদিনও বলা হয়নি।

জোরালো নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে রাজ্যে, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গে ভারী বর্ষণ,  আশঙ্কা উত্তরেও
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে একটি অতি গভীর নিম্নচাপ। শনিবার একথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। অতি গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় হবে কি না, তা এদিনও বলা হয়নি। তবে সেই আশঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এর সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও পরোক্ষ প্রভাবে এখানেও বৃষ্টি বাড়াবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গের পাহাড় লাগোয়া  জেলাগুলিতে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী পরে আরও নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া হবে। নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্র-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে গেলেও এর প্রভাব রাজ্যে কিছুটা পড়বে। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের শক্তিশালী সিস্টেমের জন্য ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া এখনও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় আছে। স্থলভূমিতে ঢোকার পরেও এটির প্রভাব বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকবে কয়েকদিন। 

Advertisement

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, অতি গভীর নিম্নচাপটি আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালের দিকে পশ্চিম মধ্য ও লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্র উপকূলের কাছাকাছি আসবে। উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হয়ে এটি ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে অগ্রসর হবে। ২২ সেপ্টেম্বর নাগাদ এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। অতি গভীর নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। সমুদ্রের উপর থাকলে জলীয় বাষ্প টেনে নিম্নচাপ আরও  শক্তিশালী হতে থাকে। তাই অতি গভীর নিম্নচাপটির আরও কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে। শক্তিশালী নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থল উপকূলের ঠিক কোন জায়গা দিয়ে স্থলভূমিতে ঢুকবে, তা এখনও জানায়নি আবহাওয়া দপ্তর। তবে স্থলভূমিতে ঢোকার পর এটি উত্তর ছত্তিশগড় হয়ে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও লাগোয়া বিহারের দিকে আসবে। তারপর এটি নেপাল, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের দিকে যেতে পারে। নিম্নচাপটির প্রভাবে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর আগামী মঙ্গলবার দুই মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান জেলায়ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার পশ্চিম রাজস্থানের কিছু অংশ থেকে বর্ষা বিদায় শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার স্বাভাবিক সময়ের দু’দিন পর এই প্রক্রিয়া শুরু হল। ৩-৪ দিনের মধ্যে রাজস্থানের আরও কিছু এলাকা ছাড়াও পাঞ্জাব ও গুজরাতের সৌরাষ্ট্র-কচ্ছের কিছু অংশ থেকে বর্ষা বিদায় নেবে। নিম্নচাপটির প্রভাব কাটার পর উত্তর ও মধ্য ভারত থেকে বর্ষা বিদায় শুরু হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ