নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল লাগোয়া বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থিত নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবু তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে রবিবার সারাদিন প্রত্যাশা মতো বৃষ্টি হল না। কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় মূলত ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়েছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত গত ৩৬ ঘণ্টায় ক্যানিংয়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে ৪৬ মিমি। হলদিয়া ও উলুবেড়িয়ায় ৪০ মিমির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় বর্ষাকালীন বৃষ্টির মোট ঘাটতি ৪০ শতাংশের বেশি কিংবা তার আশপাশে থেকেই গেল।
এই নিম্নচাপটির অবস্থানজনিত কারণে দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় ওড়িশায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এমনকি এর পরোক্ষ প্রভাবে মধ্য ভারত, উত্তর ভারত এবং মহারাষ্ট্র ও গুজরাতেও বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর ভারতে বেশি বৃষ্টি হবে বলেও আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশে সার্বিকভাবে বৃষ্টির ঘাটতি ২৪ শতাংশে নেমেছে। যে মধ্য ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি একসময় ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল, রবিবার তা নেমে আসে ১৪ শতাংশে।
গভীর নিম্নচাপটি রবিবার বিকেলে ওড়িশার চাঁদবালি ও পশ্চিমবঙ্গের দীঘার মধ্যবর্তী বালেশ্বর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে ছত্তিশগড়ের দিকে চলে যেতে
শুরু করেছে। জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। আজ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমবে। পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম ছাড়া কোনো জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। আজ থেকে উত্তরবঙ্গে ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। বুধ ও বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার কোনো কোনো স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, নিম্নচাপের ফলে বিভিন্ন রাজ্যে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়েছে এবং বেড়েছে বৃষ্টির পরিমাণ। গভীর নিম্নচাপটি মধ্য ভারত হয়ে এগোলে দেশের অনেক স্থানেই বৃষ্টি বাড়বে। মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ অনেকসময় রাজস্থান পেরিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছায় এবং সেখানেও প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। আগামী কয়েকদিনে মধ্য ভারতের সঙ্গে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাত প্রভৃতি রাজ্যের জন্যও অধিক বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
১০ জুলাইয়ের আশপাশে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ফের একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। সেটি শক্তি বাড়িয়ে শেষমেশ নিম্নচাপে পরিণত হবে কি না, সেই ব্যাপারে এখনো কিছু জানায়নি হাওয়া অফিস। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়ে কি না সেটাই এখন জল্পনা। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে তার গতিপ্রকৃতির উপরেই নির্ভর করবে দক্ষিণবঙ্গ বেশি বৃষ্টি পাবে কি না। ফাইল চিত্র