Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর থেকে দক্ষিণ ভারত, উত্তরাখণ্ডে ধসে বন্ধ ১১৮টি রাস্তা

উত্তরাখণ্ডে প্রবল বৃষ্টির কারণে ১১৮টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। বিপর্যস্ত জনজীবন, প্রশাসনের সতর্কতা। বিস্তারিত পড়ুন।

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর থেকে দক্ষিণ ভারত, উত্তরাখণ্ডে ধসে বন্ধ ১১৮টি রাস্তা
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দেরাদুন: দেশজুড়ে নানা প্রান্তে চলছে বৃষ্টি। বর্ষায় উত্তর থেকে দক্ষিণের নানা রাজ্যেই ধস এবং জল জমার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ, দেরাদুন, চামোলি, নৈনিতাল আর পিথোরাগড় জেলা বৃষ্টির জেরে বেহাল। সব মিলিয়ে বন্ধ প্রায় ১১৮টি রাস্তা। প্রবল বৃষ্টিতে ধসের কারণে বোল্ডার পড়ে বহু রাস্তা বন্ধ। আর যেগুলি খোলা রয়েছে সেখান দিয়ে গাড়ি যাওয়ার উপায় নেই। রাস্তা দিয়ে এগলেই পাহাড়ের উপর থেকে দফায় দফায় নেমে আসছে বোল্ডার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সর্পিল পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে একটি গাড়ি এগিয়ে গেল। তবে সেই রাস্তায় পিছনের গাড়ি এগতেই পাহাড় থেকে ধীরে ধীরে নেমে আসছে পাথরের টুকরো। কিছুটা এগিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে দু’টি গাড়ি। 

Advertisement

জানা যাচ্ছে, ধসের কারণে রুদ্রপ্রয়াগের ২২টি, দেরাদুনের ২১টি, চামোলিতে ১৬টি, নৈনিতালে ১৩টি এবং পিথোরাগড়ে ১২টি রাস্তা বন্ধ। অন্যদিকে নালুপানি এলাকায় ধস নেমে গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়কে যান চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি যমুনোত্রী জাতীয় সড়কের সায়নাচাট্টির কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধস নামে। এর জেরে রাস্তার প্রায় ১০০ মিটার বন্ধ রয়েছে। 
দেরাদুন, হরিদ্বার, পাউরি, তেহরি জেলায় কমলা সতর্কতা এবং উধম সিং নগর, নৈনিতাল এবং চম্পাওয়াতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, ধস এবং বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। 
এদিকে উত্তরকাশীর ভাগীরথী নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি  চলে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরকাশীর পাশাপাশি কোটেশ্বর এবং দেবপ্রয়াগেও ভাগীরথীর জলস্তর ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে বলে খবর। অন্যদিকে বদ্রীনাথে অলকানন্দাও বিপদসীমার কাছে বইছে।
উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি দেশের নানা রাজ্যে বৃষ্টির প্রকোপ চলছে। উত্তরপ্রদেশে বৃষ্টি সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ও বাজ পড়ে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। হিমাচলপ্রদেশের বিভিন্ন নদীতেও ধীরে ধীরে জলস্তর বাড়ছে। নাহান জেলার বহু রাস্তাই বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ধস নেমে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। 
উত্তরের পাশাপাশি দক্ষিণী রাজ্য কেরলেও দুর্যোগ চলছে। ওয়েনাড়ে ধসের জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে  হয়েছে ৭। রাত পর্যন্ত একজন নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। মুম্বইতেও বৃষ্টির রেশ চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ