নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গ ও লাগোয়া উত্তর ওড়িশার উপর শনিবার একটি নিম্নচাপ তৈরি হলেও আজ, রবিবার থেকে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর। আগামী সপ্তাহে ১৩-১৪ আগস্ট ফের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই নিম্নচাপটিও ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড হয়ে মধ্য ভারতের দিকে যাবে। ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশে এর প্রভাবে বেশি বৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। আগামী ১১-১২ তারিখ নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল লাগোয়া বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই কারণে আগামী সপ্তাহে বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। মাঝের সময়ে সাধারণভাবে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি চলবে। আবহাওয়াগতভাবে কোনো এলাকায় ২৪ ঘন্টায় ৭০-১১০ মিমি বৃষ্টি হলে সেটিকে ভারী বৃষ্টিপাত বলে ধরা হয়। ১১০ - ২০০ মিমি বৃষ্টি হলে ধরা হয় অতি ভারী বৃষ্টি। শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গে সবথেকে বেশি ৬০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে বারাকপুরে।
আগস্ট মাসের শুরুতে দক্ষিণবঙ্গের যেসব জেলাতে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার সৌজন্যে সেই ঘাটতি কমেছে। দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি থাকা জেলাগুলির মধ্যে এখনও রয়েছে পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ। কোনো জেলাতে দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ২০ শতাংশ কম বৃষ্টি হলে তা ঘাটতি বলে ধরা হয়। গোটা বর্ষাকালের নিরিখে এখনও পর্যন্ত পুরুলিয়ায় ঘাটতি ৩১ শতাংশ। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে যথাক্রমে ২৫ ও ২১ শতাংশ। জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত পুরুলিয়ায় রাজ্যের মধ্যে সবথেকে কম, ৪৪২ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বীরভূমে ৪৯৭ মিমি ও মুর্শিদাবাদে ৪৫৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। নদীয়াতেও ৪৬৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এটা দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ১৭ শতাংশ কম হওয়ায় আপাতত এখন সেখানে আবহাওয়াগতভাবে ঘাটতি নেই।
৩১ জুলাই পর্যন্ত পুরুলিয়ায় ৩৭৪, বীরভূমে ৩৮৬, মুর্শিদাবাদে ৩৫৯ ও নদীয়াতে ৩৯৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। দক্ষিণবঙ্গে এখনও পর্যন্ত মোট বৃষ্টির নিরিখে এক নম্বরে আছে পূর্ব মেদিনীপুর (৮৭১ মিমি)। তারপর আছে পশ্চিম মেদিনীপুর (৮৬২)। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৮১৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপগুলির প্রভাব এই জেলাগুলিতে বেশি পড়েছে। বৃষ্টিও তুলনামূলক বেশি হয়েছে।