


কলম্বো: মহারণের জন্য শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাল ভারত। শুক্রবার বিকেলে দিল্লি থেকে দ্বীপরাষ্ট্রে পা রাখেন সূর্যকুমার যাদবরা। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে দাপটে জয়ী টিম ইন্ডিয়াকে চনমনে মেজাজেই দেখা গিয়েছে। রবিবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার জন্য দল পুরো তৈরি, তা ফুটে উঠল ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসী শরীরী ভাষায়। অসুস্থতার জন্য দ্বিতীয় ম্যাচে না খেলা অভিষেক শর্মাকেও দেখা গিয়েছে হাসি মুখে। নিঃসন্দেহে সমর্থকদের কাছে স্বস্তির বার্তা। নামিবিয়া ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়া বরুণ চক্রবর্তীও আশার বাণী শুনিয়েছেন। রহস্যময় স্পিনার সাফ বলেছেন, বাঁ-হাতি ওপেনারকে সম্পূর্ণ ফিট লাগছে। স্বয়ং অভিষেকও মাঠে ফিরতে মরিয়া।
রবিবারের মোকাবিলায় বরুণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। মাঝের ওভারে বিপক্ষ ইনিংসে ধাক্কা দেওয়ার কাজটা এখনও পর্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে করছেন তিনি। প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে শিশির অবশ্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বরুণের। তাঁর কথায়, ‘কোটলাতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও শিশির সামলে বল করেছি। আইপিএলেও প্রচুর ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে শিশির পড়লে কীভাবে বল করতে হয়, তা জানি।’ নামিবিয়া ক্যাপ্টেন জেরহার্ড ইরাসমাস তাঁর প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত, ‘এমন বোলার আমরা আগে দেখিনি।’ কোনও সন্দেহ নেই, সলমন আগাদের বিরুদ্ধেও বড় ভরসা বরুণ। পাশাপাশি প্রেমদাসার পিচে মন্থর বোলারদের সাফল্য নিশ্চয়ই নজর করেছে টিম ম্যানজেমেন্ট। তাই কুলদীপ যাদবকে খেলানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে পাকিস্তানের হাতেও বিস্ময়ের উপাদান কম নেই। অদ্ভুত অ্যাকশনের উসমান তারিককে নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তাঁর সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন ঘিরে মাথাচাড়া দিয়েছে বিতর্ক। শুধু কনুই ভাঙা নিয়েই সংশয় নয়, বল ছাড়ার আগের মুহূর্তে দীর্ঘক্ষণ থমকে যাওয়াও বিস্ময়কর। ৩০ বছরের স্পিনারটি পাক বোলিংয়ের বড় অস্ত্র। নামিবিয়ার ইরাসমাস দেখিয়ে দিয়েছেন স্পিনে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা। যা নিশ্চিতভাবেই কাজে লাগাতে চাইবে পাকিস্তান। ভারতের শেষ ৫ উইকেট পড়েছিল মাত্র চার রানে। ফলে শেষের দিকে প্রত্যাশিত ঝড় ওঠেনি।
ঈশান কিষান অবশ্য চেনা মেজাজে। অনেক বেশি পরিণত দেখাচ্ছে তাঁকে। অভিষেক ও তাঁর বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি যেকোনও প্রতিপক্ষের ঘুম কাড়বে। হার্দিক পান্ডিয়াও চেনা মেজাজেই রয়েছেন। নামিবিয়া ম্যাচে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন তারকা অলরাউন্ডার। মাঠের বাইরেও রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। টিম হোটেলে বান্ধবীর সঙ্গে তাঁর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়।
ভারত-পাক মহারণ নিয়ে কম দড়ি টানাটানি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতা কেটেছে। তবুও রবিবারের দ্বৈরথ নিয়ে আচমকাই আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়েছে। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ। তার জেরে কলম্বোয় বৃষ্টি হতে পারে ম্যাচের দিন। নিঃসন্দেহে ক্রিকেটপ্রেমীদের মন খারাপ করে দেওয়ার মতোই খবর। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে প্রকৃতি যাতে জল না ঢালে, আকুল প্রার্থনায় ব্যস্ত ক্রিকেট বিশ্ব।