সংবাদদাতা, বোলপুর : এখন নানুর ও লাভপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় চলছে বোরো ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। কোথাও যন্ত্রের সাহায্যে তো কোথাও চিরাচরিত পদ্ধতিতে হাতে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন চাষিরা। তবে বুধবারের আকস্মিক বৃষ্টিতে এই কাজে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। অনেক জমিতে জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় ধান তোলার কাজ ব্যহত হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, অনেক জায়গায় ধানের শীষ শুকিয়ে যাওয়ায় ফলনও কমে গিয়েছে। চাষিদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রায় অর্ধেক দাঁড়িয়েছে। তার উপর বাজারে ধানের দামও তুলনামূলকভাবে কম, ফলে চাষের খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে চাষ করে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা। নানুর ও লাভপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এই এলাকার স্থানীয় চাষি সুজিত পাল, প্রশান্ত মণ্ডলরা জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের শীষ নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা কম থাকায় দামও খুব একটা বাড়েনি। আবার নানুর ও কীর্ণাহার থানা এলাকার বেশ কিছু গ্রামে অনেকেই গোরু-মহিষ পালন করেন। খড়ের জোগানের জন্য তারা হাতে ধান কাটেন। ইতিমধ্যেই অনেকেই ধান কেটে ফেলেছিলেন, কিন্তু বৃষ্টির জেরে সেই কাটা ধান নষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার চাষিদের কথায়, যেহেতু হাতে কাটা ধান তাই মাঠেই পড়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার যাঁরা হার্ভেস্টারে কেটেছিলেন তাঁরাও বাড়িতে কোনোরকমে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু রোদ না ওঠায় শুকোতে সমস্যা হচ্ছে। লাভপুর ব্লকের কৃষক প্রশান্ত মণ্ডল, তরুণ আচার্যরা বলেন, বর্তমানে ধানের মান অনুযায়ী কুইন্টাল প্রতি দাম প্রায় ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকার মধ্যে থাকলেও ক্রেতা কম। আগের আমন ধানেও ভালো ফলন না হওয়ায় নতুন করে এই পরিস্থিতি আমাদের আরও চিন্তায় ফেলেছে।
নানুর ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা সুব্রত সাহার কথায়, ধানের শীষ নষ্ট হওয়ার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। মাটিতে সারের ভারসাম্য ঠিক না থাকলেও এমন সমস্যা হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সময়মতো ওষুধ ব্যবহার করলে কিছুটা ফসল বাঁচানো সম্ভব। অন্যদিকে, কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এই বৃষ্টিতে ধানের ততটা ক্ষতি হবে না। তবে বোরো ধান সাধারণত বিমার আওতায় থাকে। এলাকাভিত্তিক রোগ পোকার আক্রমণ বা বেশি বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।