


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: হাজার হাজার হেক্টর জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে রেলমন্ত্রক। তা থেকে আয় করছে কোটি কোটি টাকা। কেন্দ্রের মোদি সরকারের ১১ বছরে রেলের বিভিন্ন জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে আয়ের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে মন্ত্রক। বিশেষত বিগত পাঁচটি আর্থিক বছরে লাফিয়ে বেড়েছে জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে রেলের আয়ের পরিমাণ। বুধবার সংসদে একথা জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। স্বাভাবিকভাবেই যা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে কিছুটা সাফাই দেওয়ার ভঙ্গিতেই রেল জানিয়েছে, এইসব জমি জনস্বার্থের কাজেই ব্যবহার করা হয়। যেমন, উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে ক্রীড়া পরিকাঠামোর মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে ‘মউ’ স্বাক্ষর হয়েছে।
রেলের জমির ব্যবহার নিয়ে বুধবার লোকসভায় লিখিত প্রশ্ন করেন জেএমএম সাংসদ বিজয়কুমার হাঁসদাক। তারই লিখিত জবাবে পরিসংখ্যান পেশ করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, সারা দেশে রেলের মোট জমি আছে প্রায় ৪ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৮ হেক্টর জমি বর্তমানে জবরদখল হয়ে রয়েছে। এবং ৪ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে রেলমন্ত্রক। এই ইস্যুতেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত জমি থেকে রেলের কত আয় হচ্ছে, ২০১৪-১৫ আর্থিক বছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত সেই খতিয়ানও দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তাতেই চোখ কপালে উঠছে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের। দেখা যাচ্ছে, দেশব্যাপী প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত জমি থেকে উল্লিখিত ১১ বছরে রেলের মোট আয় হয়েছে ২৩ হাজার ৪৮ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা। এখানেই শেষ নয়। ২০২০-২১ আর্থিক বছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এহেন জমি থেকে রেলের আয়ের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৬ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। ২০২৪-২৫ আর্থিক বর্ষে তা হয়েছে ৩ হাজার ১২৯ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব অবশ্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন, হাসপাতাল তৈরি, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় নির্মাণের মতো বিভিন্ন সামাজিক পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রেই রেলের জমি ব্যবহারের অনুমতি মেলে।