Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিউ ফরাক্কা স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদের নোটিস রেলের, সরাতে সময় ৩ দিন

ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন রেলের এলাকায় দু’দশক ধরে দোকান চালিয়ে পরিবার প্রতিপালন করছেন ছোটো ব্যবসায়ীরা। এবার সেইসব জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের নোটিস জারি করল রেল কর্তৃপক্ষ।

নিউ ফরাক্কা স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদের নোটিস রেলের, সরাতে সময় ৩ দিন
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন রেলের এলাকায় দু’দশক ধরে দোকান চালিয়ে পরিবার প্রতিপালন করছেন ছোটো ব্যবসায়ীরা। এবার সেইসব জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের নোটিস জারি করল রেল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এলাকায় মাইকিং করে এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করা হলে আগামী বুধবার থেকেই জবরদখল হঠাতে বুলডোজার নামানো হবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের এই আকস্মিক হুশিয়ারিতে ঘুম উড়েছে এলাকার শতাধিক দোকানদার ও তাঁদের পরিবারগুলির।

Advertisement

এই উচ্ছেদ অভিযান ও নোটিসের বিষয়ে দক্ষিণ পূর্ব রেলের এক জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে বিশদে জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব। পাশাপাশি, রেলের জমিতে এভাবে আইনবিরুদ্ধ জবরদখল বজায় রাখাও ঠিক নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ ফরাক্কা স্টেশন গেট সংলগ্ন চত্বরে শতাধিক ছোটো ও মাঝারি দোকান রয়েছে। যার সিংহভাগই খাবার হোটেল, মিষ্টির দোকান, চা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে বসে। এই ব্যবসায়ীদের বড়ো অংশের দাবি, তাঁরা কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সব জমিতে স্থায়ীভাবে ব্যবসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আকস্মিক এই উচ্ছেদের নোটিসে মাথায় হাত পড়েছে তাঁদের। ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, কোনো রকম বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের সুযোগ না দিয়ে আচমকাই হঠিয়ে দেওয়া হলে শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও তাঁদের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলি পথে বসবে। এই পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে স্থানীয় বিধায়ক মাহতাব শেখের দ্বারস্থ হন আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আর্তনাদ ও লিখিত আবেদনে সাড়া দিয়ে শনিবার সকালেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক। সরেজমিনে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার পরই ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বিধায়ক।
মাহতাব সাহেব বলেন, সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মেরে কোনো উন্নয়ন হবে না। আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছি। এই বিষয়ে রেল মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে তাঁদের আইনি পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ