Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরীক্ষা, পুজোর মধ্যে কুড়মিদের অবরোধ আটকাতে মরিয়া রেল

এখনও শেষ হয়নি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সামনে দুর্গাপুজো। তার ঠিক আগেই অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল ও সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ।

পরীক্ষা, পুজোর মধ্যে কুড়মিদের অবরোধ আটকাতে মরিয়া রেল
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: এখনও শেষ হয়নি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সামনে দুর্গাপুজো। তার ঠিক আগেই অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল ও সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিন থেকেই নিজেদের দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য অবরোধে নামার কথা ঘোষণা করেছেন সংগঠনের মূল মানতা(মুখ্য উপদেষ্টা) অজিতপ্রসাদ মাহাত। পাল্টা অবরোধ আটকাতে সবরকম চেষ্টা করছে প্রশাসন। রেল পুলিশ ইতিমধ্যেই স্টেশনে স্টেশনে মক ড্রিল করছে। সাধারণ মানুষও এই অবরোধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলছে। ঝড় উঠছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।  

Advertisement

কুড়মিদের এসটি তালিকাভুক্ত করা, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলিভুক্ত করা, সারনা ধর্মের কোড চালু করা সহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মহলায়ার আগে এবং ২০২৩ সালে এপ্রিলেও এই ধরনের আন্দোলন করেছিল কুড়মিরা। পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম সীমান্তবর্তী খেমাশুলিতে এই অবরোধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। টানা প্রায় পাঁচ দিনের আন্দোলনে রেলকে কয়েকশো ট্রেন বাতিল করতে হয়েছিল। অবরোধের জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছিল সাধারণ মানুষকে। তারপর ফের আরও একটি অবরোধের ডাকে দুশ্চিন্তায় ঘুম উবেছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে পুজোর আগে এই অবরোধে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ দেখতে শুরু করেছে। পুজোর আগে ভিন রাজ্য থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক নিজের মাটিতে ফেরেন। এই অবরোধ হলে সাধারণ মানুষ যে চরম ভোগান্তির মুখে পড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 
অবরোধ আটকাতে সবরকম পদক্ষেপ করছে রেল। মঙ্গলবারই কুস্তাউর স্টেশনে মক ড্রিল করেছে রেল। কেউ অবরোধ করতে এলে আরপিএফ কী করবে, তার মহড়া হয়। মহড়ায় কাঁদানে গ্যাসের সেলও ফাটানো হয়েছে। বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে রেল। রেলের দাবি, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মোট ২২টি স্টেশনে রেল অবরোধ করতে চেয়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজের তরফে চিঠি পেয়েছে রেল। যদিও রেলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের জমায়েত সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবাধিনিক। এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবে রেল। 
সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় উল্লেখ করে রেল জানিয়েছে, আন্দোলন বা বিক্ষোভের জন্য সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জরুরি কোনও পরিষেবা(রেল পরিষেবা) বিঘ্নিত করা যাবে না। রেলের আইন মেনে চলার জন্য অবরোধকারীদের অনুরোধ করেছে রেল। আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, কেউ অবরোধ করতে এলে রেল আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাত্রীদের কোনওভাবেই অসুবিধায় ফেলা যাবে না। 
যদিও বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অজিতবাবু বলেন, ২০ তারিখ থেকেই আমরা অবরোধে নামছি। ২২ তারিখ পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এখনই সড়ক অবরোধ করছি না। তবে রেল অবরোধ হবেই। আমরা সমস্তস্তরে আগাম চিঠি দিয়েছি। রেলকেও দিয়েছি। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় রেল অবরোধ হবে। পুরুলিয়ার সমস্ত স্টেশনেই অবরোধ হবে। রেলের মক ড্রিল নিয়ে অজিতবাবু বলেন, রেল কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাচ্ছে। পুলিশ আমাদের ধমকি দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি ভাড়া করতে দিচ্ছে না। কিন্তু, আমরা মাথানত করব না। মরলে রেল লাইনেই মরব। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিকে তাঁর হুঁশিয়ারি, যারা যারা আমাদের বিরুদ্ধাচারণ করবে, ভোটের সময় তারা ফল পাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ