Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে লাইনের নীচ দিয়ে জলপ্রকল্পের পাইপ পাততে সাহায্যের আশ্বাস দিল রেল

তিন মাসের মধ্যে নন্দীগ্রামের বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

নন্দীগ্রামে লাইনের নীচ দিয়ে জলপ্রকল্পের পাইপ পাততে সাহায্যের আশ্বাস দিল রেল
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তিন মাসের মধ্যে নন্দীগ্রামের বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সেই প্রকল্পের নানা জট ছাড়াতে জেলাশাসক অফিসে জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন), হলদিয়ার মহকুমা শাসক, রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের পদস্থ অফিসার, প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের(পিআইইউ) সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার সহ আরও অনেকে অংশ নেন। নির্মাণকারী এজেন্সির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তমলুক ও নন্দকুমারের সংযোগস্থল তালপুকুর এবং চণ্ডীপুরের মগরাজপুরে রেল লাইনের নীচ দিয়ে পাইপলাইন পাতার কাজ বাকি। রেল থেকে এনওসি না আসায় ওই কাজ আটকেছিল। এদিন রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪৮ঘণ্টার মধ্যেই এনিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের(এডিবি) ১২০০কোটি টাকা আর্থিক সহায়তায় নন্দীগ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নদীবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। ২০১৮-’১৯ সাল থেকে ওই কাজ শুরু হলেও উমপুন ও যশের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়, করোনা ভাইরাসের হানায় সেই কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। গত দেড়-দু’বছর কাজ মোটামুটি এগোলেও টার্গেট পিরিয়ড বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এত বড়ো মেগা প্রকল্পের কাজে দেরি হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় পাইপ পড়ে থাকলেও তারউপর লতাপাতা গজিয়ে ওঠায় আদৌ এই স্কিম রূপায়ণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।

Advertisement

গত রবিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হলদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, তিন মাসের মধ্যে এডিবি স্কিমের জল ছাড়তে হবে নন্দীগ্রামে। কোনো অজুহাত তিনি শুনবেন না। এরপরই জেলা প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়। কোন কোন জায়গায় জট আছে তা নিয়ে আলোচনায় বসে জেলা প্রশাসন এবং ওই স্কিমের জন্য গঠিত প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট। সেখানে রেললাইনের নীচ দিয়ে পাইপলাইন নিয়ে যাওয়া, নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের মতো ব্যস্ত এলাকায় পাইপ পাতার কাজ আটকে থাকা সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিন খড়্গপুর ডিভিশন অফিস থেকে রেলের অফিসাররা জানিয়েছেন, লাইনের নীচ থেকে পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে তাঁদের সমস্যা নেই। তারা তাড়াতাড়ি এটা করে দেবেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম স্টেশন এলাকায় পাইপলাইন পাতার কাজ নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এজন্য সরকারি জমি থেকে স্টল, দোকানপাট খালি করতে মাইকিং করা হচ্ছে। তাড়াতাড়ি ওই এলাকায় পাইপ পাতার কাজ শুরু হবে।
ছ’মাসের মধ্যে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন। সেই ভোটের আগে এই মেগা প্রজেক্ট চালু হলে তার সুফল ঘরে তুলবে শাসকদল বিজেপি। এই প্রকল্প চালু হলে ২৪ ঘণ্টা মাথাপিছু ৭০লিটার পানীয় জল পাওয়া যাবে। সারাদিন জলের সরবরাহ থাকবে। আগামী কয়েক প্রজন্ম জলের সমস্যা থেকে রেহাই পাবে নন্দীগ্রাম। তাই এরকম একটি স্কিম উপ নির্বাচনের আগেই শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে।

সম্পর্কিত সংবাদ